যশোরের চৌগাছায় নারী ঘটিত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে ঝন্টু (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আশানুর রহমান (৩৫) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ রাতে চৌগাছা উপজেলার মাড়ুয়া এলাকায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত ঝন্টু ও আহত আশানুর রহমান চৌগাছা থানার মাড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত মূল হামলাকারী আবু উবাইদা (৩৫) উপজেলার দক্ষিণ সাগর গ্রামের জহুরুল ইসলাম দাউদের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মামাতো বোন তামিমা আক্তার জুঁই (১৪) এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এই নিখোঁজের সূত্র ধরে ঘটনার দিন রাতে মাড়ুয়া গ্রামের ঝন্টু ও আশানুরের সাথে দক্ষিণ সাগর গ্রামের আবু উবাইদাসহ তার সহযোগীদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথা কাটাকাটি হয়।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আবু উবাইদা ও তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন যুবক দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও ছুরি নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা ঝন্টুর বুকের বাম পাশে দুটি এবং আশানুরের বুকের মাঝখানে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা ইয়াসমিন জ্যোতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঝন্টুকে মৃত ঘোষণা করেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা ইয়াসমিন জ্যোতি জানান, ১ নং ভিকটিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অপর আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।