কবিতা
আমি নির্বাসনে যাব
আমি এক অমিমাংসিত কবিতা,
সময়ের স্রোতে বাকরূদ্ধ আমি।
তোমাদের এই আদিখ্যেতা সমাজ হতে
আমি নির্বাসনে যাব।
আমাকে ক্ষত বিক্ষত করে যুগের উত্তাপ।
আমার দম বন্ধ হয়ে আসে ,দূষিত এ শহরে।
তোমাদের কলম আমাকে দিতে পারে না প্রাণ,
আমাকে বন্দী করো মেকি ভালোবাসা আর নষ্ট বিলাসিতায়।
আমি তোমাদের অনুভূতিকে বদলাতে পারিনা,
সমাজের আঁস্তাকুড়ে আমাকে পৌঁছে,
তুমি মানবিক হতে পারো না।
আমি তোমাদের আসরে আলোচিত হতে চেয়েছিলাম,
চেয়েছিলাম হাজার হৃদয় আলতো ছুঁয়ে দিতে,
পারিনি, আমার খুব কষ্ট হয়।
তোমাদের কলমের বেপরোয়া আঁচড়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে আমার অস্তিত্ব।
ভালোবাসাহীন শব্দের গাঁথা মালায়
আমাকে কলঙ্কিত করো না।
মেঘমুক্ত নির্মল বাতাসে আমাকে মানুষের কথা বলতে দাও।
আমাকে মিছে আশ্বাসে বেঁধে রেখো না।
মুক্তি দাও, মুক্তি দাও,আমি নির্বাসনে যাব।
আরও পড়ুন-
এই অস্থির সময়ে নিজের শিকড় ও মাটির কাছাকাছি থাকা জরুরি
আমি এক নারী
আমি কুল কাঠের আগুনে পুড়ে
ঝলসানো এক নারী,
আমার মৃত্যু হয় না,
আমি বার বার জেগে উঠি ভিসুভিয়াসের জলন্ত লাভা হতে।
এ সমাজ, এ জগত সংসার নারী বলে যে শেকল আমাকে বেঁধে দিয়েছে ,
সে শেকল ছিঁড়ে গণ্ডীর বাইরে যেতে আমি পারি না, বার বার হেরে যাই।
বিধাতা আমার কোমল হৃদয়ে দিয়েছে আকাশের মতো উদারতা, পাহাড়ের মতো ধৈর্য্য।
অবহেলিত এক সংসারে আমাকে তিলে তিলে শেষ হতে দেখেও,
কারো কিছুই করার নেই আমার জন্য।
কারন আমি যে নারী,
যাকে তোমরা অনায়াসে মেয়ে মানুষ আখ্যা দিয়ে আলাদা এক প্রজাতিতে
পরিণত করেছো।
এই অবলা নারী সংসার ভালোবেসে নিজের চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দেয়।
পরিণত হয় দাসীতে ,তখন তোমার কাছে হয় অসামাজিক।
নিয়ন আলোয় রেস্টুরেন্টে বসে
এ নারীর কাছে তুমি হিরো হতে চাও না।
তুমি চাও চাকচিক্যময়,অতিশয় যত্নে
চেহারায় পালিশ করা সৌখিন নারীর কামনা সঙ্গী হতে।
সংসারে কতটা নারীর অবদান
তা বুঝতে তাকে অবসর দাও দু'দিন।
তখনই বুঝবে কতটা নির্ভরতার নাম
এই মায়াময়ী স্নেহময়ী নারী।
নিয়ত কত স্বপ্ন খুন হয় এ নারীর
গহীন হৃদয়ে,কে রাখে তার খোঁজ?
লম্বা হিসেবের খাতা মুছে যায় ছেলের
ঘুমপাড়ানি গানের আড়ালে,
নিজেকে কোটি অমাবস্যায় সঁপে দেয় সন্তানের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে।
তবুও দিনশেষে সে বড্ড অসহায়,বড্ড একা।
আর কতকাল খেলবে হে পুরুষ সেই প্রাগৈতিহাসিক খেলা?
বেরিয়ে এসো, হয়ে ওঠো তোমার সহধর্মিণীর কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরুষ।
একটু যত্নে যেথায় মেলে স্বর্গসুখ,
সেই হৃদয়ে খড়কুটো দিয়ে গড়ে তোলো যত্নের তাজমহল।