কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রাজিব হাসানকে (৩৮) হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী মামুনের নেতৃত্বে চার-পাঁচজনের একটি দল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনেরা। ধারালো চাপাতি ও বাঁশের লাঠির আঘাতে রাজিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। প্রথমে তাঁকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার বড়বামনদহ ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত রাজিব হাসান বড়বামনদহ গ্রামের বাহার কবিরাজের ছেলে। তিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজিবকে উদ্দেশ করে অভিযুক্তরা গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে এক নম্বর আসামি ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয় এবং শিরা কেটে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে অন্য অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাঁকে ঘিরে ধরে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—মো. সাকিব হাসান (২৫), মোছা. গোলাপি খাতুন (৪৮), মো. আতিয়ার রহমান (৫০) ও মামুন (৪৫)। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া এবং এ নিয়ে বিরোধের জেরেই রাজিবের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এগিয়ে আসেন। পরে তাঁরা আহত রাজিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে, একজন জনপ্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠনের ওয়ার্ড সভাপতির ওপর এমন হামলার ঘটনায় কোটচাঁদপুরজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের বিস্তার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর মডেল থানার কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, “অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অপরাধী যে-ই হোক, যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।