Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

রোদ-ছায়ার চিত্রকর যোগেন চৌধুরী: জীবন, নান্দনিক যাত্রা ও শিল্প-অবদান

মহিউদ্দীন মোহাম্মদ মহিউদ্দীন মোহাম্মদ
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ অক্টোবর,২০২৬, ১০:৫০ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২৬ অক্টোবর,২০২৬, ০১:১৯ এ এম
রোদ-ছায়ার চিত্রকর যোগেন চৌধুরী: জীবন, নান্দনিক যাত্রা ও শিল্প-অবদান

প্রয়াত চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী ছবি: সংগৃহীত

সমকালীন ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসমঞ্চে এক বর্ণময় ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের যবনিকাপাত ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর, রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মহীরুহ চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী। প্রয়াণকালে এই প্রখ্যাত নন্দনতাত্ত্বিকের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তাঁর এই বিদায় কেবল একজন শিল্পসাধকের অন্তর্ধান নয়, বরং আধুনিক বাংলা চিত্রভাষার এক অনন্য রূপান্তরণ পর্বের পূর্ণচ্ছেদ।

পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিল্পী দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। দুর্গোৎসবের সময়কাল থেকে তিনি নতুন করে মূত্রনালীর সংক্রমণে কষ্ট পাচ্ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে ২৪ অক্টোবর শনিবার রাতে পরিবারের সম্মতিতে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। প্রাক্তন রাজ্যসভা সংসদ (এমপি) ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই প্রবীণ শিল্পীর প্রয়াণে দেশ-বিদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

২. 

যোগেন চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের কোটালিপাড়ার এক আভিজাত্যপূর্ণ জমিদার পরিবারে। শৈশব থেকেই তিনি পারিবারিক আবহে চিত্রকলার সুগভীর রসদ লাভ করেছিলেন। তাঁর পিতা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন একজন অনুরাগী চিত্রকর, যিনি হিন্দু পৌরাণিক আখ্যানের চরিত্রাবলী এবং গ্রামীণ যাত্রাপালার রূপায়ণ পটে ফুটিয়ে তুলতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। পাশাপাশি, তাঁর মাতাও ছিলেন একজন দক্ষ আলপনাশিল্পী। পিতামাাতার এই শৈল্পিক উত্তরাধিকার তরুণ যোগেনের নান্দনিক চেতনায় শিল্পচর্চার বীজ রোপণ করে।

১৯৪৮ সালে দেশভাগের সামাজিক ও রাজনৈতিক অভিঘাতে তাঁদের পরিবার সপরিবারে কলকাতায় চলে আসে এবং এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। আশ্রিত জীবনের সেই অনিশ্চিত দিনগুলিতেই সেই আত্মীয়ের বাড়ির দেওয়ালে বালকমনে নিজের প্রথম ছবিটি এঁকেছিলেন যোগেন। দেশভাগের ট্রমা, তৎকালীন তীব্র খাদ্য আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে সমাজতন্ত্রের প্রতি মোহভঙ্গের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ তাঁর শিশু ও কৈশোরের মানসপটে এক বিষণ্ণ ও অন্ধকার ছায়া ফেলেছিল। সেই মানসিক অভিঘাতই পরবর্তীতে তাঁর চিত্রাবলির রহস্যময়, গভীর ও অন্ধকার প্রেক্ষাপটে শিল্পরূপ পরিগ্রহ করে।

৩. 

যোগেন চৌধুরীর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা, পেশাগত নান্দনিক বিকাশ ও রাজনৈতিক ভূমিকার কালানুক্রমিক রূপরেখা নিচে উপস্থাপন করা হলো:

১৯৫৫–১৯৬০
কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে ভর্তি এবং ১৯৬০ সালে সম্মানজনক স্নাতক ডিগ্রি লাভ।
১৯৬০
হাওড়া জেলা স্কুলে কলাশিক্ষক হিসেবে পেশাগত জীবনের সূচনা।
১৯৬২
কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগদান।
১৯ ১৯৬৫
ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসের বিখ্যাত ‘একোল ন্যাশিয়োনাল দে বোজ় আর্তস’-এ (École Nationale Supérieure des Beaux-Arts) শিক্ষাগ্রহণ এবং লন্ডনে অবস্থান।
১৯৬৮
ভারতে প্রত্যাবর্তন, চেন্নাইয়ে হ্যান্ডলুম বোর্ডের চাকরিতে পুনঃযোগদান এবং ‘ক্যালকাটা পেন্টার্স গ্রুপ’-এ অংশগ্রহণ।
১৯৭২
হ্যান্ডলুম বোর্ডের চাকরি ছেড়ে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটর পদে নিয়োগ লাভ।
১৯৮৭
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিনিকেতন কলাভবনে অধ্যাপনায় যোগদান।
রাজনৈতিক ভূমিকা-
বিগত সরকারের আমলে ভারতীয় সংসদের রাজ্যসভার সদস্য (এমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন।

৪. 

যোগেন চৌধুরীর চিত্রকলা পশ্চিমের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও দেশজ লোকশিল্পের সংবেদনশীলতাকে এমন এক অভিনব রসায়নে জারিত করেছিল, যা তাঁকে সমসাময়িক যেকোনো চিত্রকর থেকে স্পষ্টত পৃথক করে। প্যারিসে অবস্থানকালে বিভিন্ন মডেলের সরাসরি স্কেচ করতে গিয়ে যোগেন উপলব্ধি করেন যে, দৃশ্যমান বাস্তবতাকে হুবহু ফুটিয়ে তোলার চেয়ে সেই অবয়ব বা 'ফিগারাইন'-এ একপ্রকার 'বাহুল্য' (exaggeration) বা স্বাভাবিকতার রূপান্তর ঘটানোর তাগিদ তাঁর অন্তরে তীব্র। এই নান্দনিক 'বাহুল্য'-ই পরবর্তীতে তাঁর নিজস্ব সিগনেচার শৈলীতে পরিণত হয়।

ক্যানভাসে প্রথাগত ইউরোপীয় 'সুন্দর'-এর ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বিসর্পিল ড্রয়িং ও শিথিল বহিঃরেখায় ছবি আঁকা শুরু করেন। ১৯৮০ সালের 'চাদর গায়ে মানুষ' কিংবা ১৯৯৪ সালের 'সিচুয়েশন'-এর মতো কালজয়ী ছবিতে এই অঙ্গসৌষ্ঠবের শৈথিল্য ও সর্পিলতা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। লক্ষণীয় বিষয় হলো, তাঁর ক্যানভাসে চিত্রিত মানব-মানবীর প্রতিকৃতিগুলি অধিকাংশেই মধ্যবয়স্ক। 'উওম্যান উইথ সিলভার নেকলেস' (২০১৪) বা 'ইয়ং লেডি উইথ আ মিরর'-এর মতো কাজে চিত্রিত নারীদের শরীরসংস্থান কোনো নির্দিষ্ট ধ্রুপদী অনুপাতের ছাঁচে গঠিত নয়; বরং ঈষৎ সরে থাকা ঠোঁট, প্রলম্বিত নাক এবং শিথিল মাংসপেশির মধ্য দিয়ে তিনি এক ভিন্নতর মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা প্রকাশ করেন।

গাঢ় নীল বা নিকষ কালো প্রেক্ষাপটের ওপর বিসর্পিল রেখার বুননে 'জালিকাময়তা' (Jalikamayata) গড়ে তোলা যোগেনের চিত্রভাষার অন্যতম স্তম্ভ। ২০০৫ সালের 'গণেশ' ছবিতে কালো প্রেক্ষাপটের ওপর গণেশের বিসর্পিল ও জালিকাময় আকৃতি এর এক অতুলনীয় নিদর্শন। কলা-আলোচক অনুরাধা ঘোষ তাঁর ‘দি আফটারলাইফ অফ সাইলেন্স: স্টিল Lifes অফ যোগেন চৌধুরী’ গ্রন্থে এই বিশেষ জালিকাজকে বস্তু ও অবয়বের অন্তর্বর্তী শূন্যতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, বিশিষ্ট সমালোচক মনসিজ মজুমদারের মতে, এই জালিকাময় জটাজাল প্রকৃতপক্ষে আধুনিক সমাজের লোলচর্ম বাস্তবতার ব্যঙ্গচিত্র, যা মানুষের ক্ষয়িষ্ণু ও জীবন্মৃত যাপনকে উন্মোচিত করে। সাহিত্যচিত্রণেও এই শৈলী একইভাবে বাঙ্ময়; কমল চক্রবর্তীর তৃতীয় লিঙ্গের সমাজ নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘ব্রহ্মভার্গব পুরাণ’-এর জন্য আঁকা তাঁর রেখাচিত্রগুলি দর্শকের অবচেতনে এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

৫. 

যোগেন চৌধুরীর আঁকা স্থিরচিত্র বা 'স্টিল লাইফ' সমকালীন ভারতীয় শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। সেখানে পশ্চিমা আধুনিকতা ও দেশজ ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলন দেখা যায়। বাঙালি মধ্যবিত্ত যাপনের অত্যন্ত পরিচিত অথচ কলা-আলোচক মনসিজ মজুমদারের ভাষায় ‘নিত্য-উপেক্ষিত’ কাপ, গেলাস, বাটি, ফুলদানি, বালিশ কিংবা তোষকের মতো সাধারণ ব্যবহার্য সামগ্রীকে তিনি চিত্রপটের কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করেন। বিশেষ করে তাঁর অগণিত ক্যানভাসে ফুটে ওঠা ফুলগুলো বাস্তব আকৃতি অতিক্রম করে নেতিয়ে পড়া পাপড়িসহ এক গতিময় ও শিথিল রেখায় "অ-সুখের স্বপ্নের" দিকে প্রসারিত হয়।

মনসিজ মজুমদারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যোগেন চৌধুরীর রেখাঙ্কনে সতত ক্রিয়াশীল ছিল এক অনন্য রূপান্তর কৌশল— তা হলো "সপ্রাণকে নিষ্প্রাণ ও নিষ্প্রাণকে সপ্রাণ করার নান্দনিক প্রক্রিয়া"। একদিকে তিনি সপ্রাণ মানবদেহের স্বাভাবিক শক্তি হরণ করে তাকে স্থিরচিত্রের মতো ম্রিয়মাণ ও 'জীবন্মৃত' অবয়বে পরিণত করতেন; অন্যদিকে বালিশ, কাপ বা তোষকের মতো নিষ্প্রাণ ও নিথর বস্তুকে বিসর্পিল রেখার ছন্দে গতিময় ও সপ্রাণ রূপ দান করতেন।

এই স্থিরচিত্রায়ণে পশ্চিমি আধুনিকতার স্পর্শ থাকলেও তা কোনো অন্ধ অনুকরণ ছিল না। উদাহরণস্বরূপ, ফরাসি ইম্প্রেশনিস্ট পল সেজ়ানের বিখ্যাত 'আপেল'-এর সাথে যোগেনের আঁকা 'আপেল'-এর পার্থক্য সুদূরপ্রসারী। যোগেনের 'আপেল' রঞ্জিত বিমর্ষ ও মলিন হলুদে। এই হলুদ পশ্চিমি আধুনিকতার ধার করা রঙ নয়; বরং তা ভারতীয় লোকশিল্পীদের ব্যবহৃত অতি পরিচিত 'এলামাটির হলুদ'— যা জীবনের অস্তরাগের মতো বিষণ্ণ ও ম্রিয়মাণ। তাঁর 'স্বপ্ন' ও 'স্বপ্নের স্মৃতি' সিরিজ়ের ছবিগুলিতে এই পরাবাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট, যেখানে জীবন ও মৃত্যুর সংযোগসীমা একাকার হয়ে যায়।

৬. 

যোগেন চৌধুরীর চিত্রকলা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আধুনিক নাগরিক জীবনের জটিল বাঁকগুলির ঠিক নিচেই প্রচ্ছন্ন থাকে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও লোকঐতিহ্যের এক বহমান সাঙ্গীতিক তান। প্রখ্যাত কলা-আলোচক আর শিবকুমার অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, যোগেনের বিসর্পিল রেখার বাঁকে কেবল শহরের জটিল ও জট পাকানো জীবনই ধরা পড়ে না, বরং তার গভীরে মেটে সুরের এক সাঙ্গীতিক ছন্দ স্পন্দিত হতে থাকে।

শিল্পী যোগেন চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনেও ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীর অনুরাগী ছিলেন। ফরিদপুরের কোটালিপাড়ার কোটালি ঘরানার খেয়াল সঙ্গীতসাধক পণ্ডিত তারাপদ চক্রবর্তীর যোগ্য উত্তরাধিকারী তথা সংগীতশিল্পী রুচিরা পাণ্ডার স্মৃতিকথা থেকে এর এক অনুপম প্রমান মেলে। কোটালি ঘরানার গান প্রসঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে যোগেন চৌধুরী একবার জানতে চেয়েছিলেন— শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে আকৃতির স্বাভাবিকতা ভেঙে বিস্তৃত করার যে প্রবৃত্তি, তা কীভাবে কাজ করে। উত্তরে রুচিরা পাণ্ডা বুঝিয়েছিলেন, মাত্র দুই বা চার লাইনের একটি সংক্ষিপ্ত বন্দিশকে খেয়াল গায়কিতে বিস্তার, গমক ও তানকারির মাধ্যমে যেভাবে দীর্ঘ প্রলম্বন দিয়ে এক ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনায় রূপ দেওয়া হয়, তা-ও একপ্রকারের রূপান্তর বা প্রলম্বন। এই নান্দনিক ব্যাখ্যা যোগেন চৌধুরীকে গভীরভাবে আনন্দিত ও জারিত করেছিল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মথুরা আর্টে নির্মিত বুদ্ধমূর্তির প্রলম্বিত কানের কলারূপটির কথা স্মরণ করেছিলেন। বস্তুত, ক্যানভাসে যোগেনের টানা টানা সর্পিল রেখা ও আকৃতির প্রলম্বনের মধ্যে খেয়ালের সেই বন্দিশ বিস্তার ও গমকের সাঙ্গীতিক বহমানতাই বিচ্ছুরিত হয়।

৭. 

জীবনের শেষপর্বেও যোগেন চৌধুরীর নান্দনিক অনুসন্ধান থেমে থাকেনি। তুলি ও ক্যানভাসের পাশাপাশি কালি-কলম এবং মোটা ব্রাশের কাজেও তাঁর পরিচিত সর্পিল রেখার স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য অটুট ছিল। ক্যানভাস কিংবা কাগজ— যে পাত্রেই তিনি ছবি আঁকুন না কেন, চিত্রকর্মের নিচে তিনি সই করতেন স্বকীয় ও স্বল্পাক্ষর রীতিতে: দুইটি মাত্র বর্ণে— ‘যো’।

চিত্রপটের নিচে খোদাই করা এই অসম্পূর্ণ রূপের স্বাক্ষর ‘যো’ আজ শিল্পরসিকদের কাছে অত্যন্ত বাঙ্ময় ও কালজয়ী এক প্রতীক। আপাতদৃষ্টিতে অসম্পূর্ণ মনে হলেও, এই দুটি অক্ষরের মধ্য দিয়ে যেন প্রয়াণের পরেও শিল্পী অনাগত ভবিষ্যতের দিকে নিজের তুলি ধরা হাতটি বাড়িয়ে রেখেছেন। দেশভাগ, সামাজিক বিপর্যয়, খাদ্য আন্দোলন কিংবা সমাজতন্ত্রের প্রতি মোহভঙ্গের চরম অন্ধকার প্রেক্ষাপট থেকে যে নান্দনিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, জীবনের অন্ধকারময় ক্যানভাসে 'জালিকাজট' এবং বিসর্পিল রেখায় সত্যকে ফুটিয়ে তুলে সেই আঁধারকেই জয় করেছিলেন তিনি। সপ্রাণ ও নিষ্প্রাণের চিরন্তন লীলাকে ধরে রাখা তাঁর এই সৃষ্টিসমূহ এবং স্বাক্ষর ‘যো’ কালপ্রবাহকে অতিক্রম করে ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।

ঋণস্বীকার : আনন্দ বাজার ও আজকাল পত্রিকা

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)