বিশেষ প্রতিবেদক
ছবি: জামায়াতে ইসলামীর লোগো
প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ দলীয় রাজনৈতিক কাঠামোতে আসতে যাচ্ছে এক বড় ধরনের পরিবর্তন। দলের প্রায় সাত দশকের ইতিহাস ভেঙে এই প্রথমবারের মতো গঠন করা হচ্ছে একটি স্থায়ী ‘উপদেষ্টা পরিষদ’। সবচেয়ে বড় চমক হলো—এই পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য দলের চিরাচরিত কঠোর নিয়ম অনুযায়ী কোনো ‘রুকন’ বা শপথধারী সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। অর্থাৎ দলের বাইরের যোগ্য, দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিরাও এতে যুক্ত হতে পারবেন।
দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে এবং দলকে আরও গণমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নিয়েছে নীতিনির্ধারকরা। এ খবর দিয়েছে দৈনিক আমার দেশ।
সংবাদটিতে বলা হয়েছে, জামায়াতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এই উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম—২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ইতোমধ্যে একমত প্রকাশ করেছে। এখন বিষয়টির ওপর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষে দলের বিদ্যমান গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হবে।
জামায়াতের এই নতুন পদে যুক্ত হবেন দেশের অভিজ্ঞ ও প্রথিতযশা পেশাজীবীরা। এই পরিষদে থাকবেন—সাবেক আমলা ও জ্যেষ্ঠ সাবেক সচিব, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও পেশাদার কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ বৃন্দ।
জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও বিপুল জনসমর্থন পাওয়ার পর রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার তাগিদ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, “জামায়াতের প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জনসমর্থন দিন দিন বাড়ছে। বিগত নির্বাচনে আমরা যার পরিষ্কার প্রতিফলন দেখেছি। বিরোধী দল হিসেবে দেশ পরিচালনায় জামায়াত সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও বহুমতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।”
দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও জানান, মহিলা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে বর্তমানে ২১ জন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া দলের মোট রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশই নারী। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের যেমন পরামর্শ নেওয়া হয়, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হলে সেখানে সমাজের বিশিষ্টজনদের সংযুক্তির মাধ্যমে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সমৃদ্ধ হবে।
জামায়াতের এই নতুন কৌশলগত উদ্যোগকে রাজনীতির মাঠে ইতিবাচক ও সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী এ বিষয়ে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, “দলের কাঠামোগত অনড় অবস্থানের বাইরে এসে জামায়াত যদি বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করে, তবে তা দেশের সার্বিক রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।” তবে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই উপদেষ্টা পরিষদ শেষ পর্যন্ত কতটা স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটা এখন দেখার বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।