Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

এই অস্থির সময়ে নিজের শিকড় ও মাটির কাছাকাছি থাকা জরুরি

রেবেকা টপি রেবেকা টপি
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুন,২০২৬, ০৯:৪৮ এ এম
এই অস্থির সময়ে নিজের শিকড় ও মাটির কাছাকাছি থাকা জরুরি

ছবি: এআই/ধ্রুব নিউজ

রেবেকা টপি একাধারে একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ ও সৃজনশীল সাহিত্যিক। ১৯৮১ সালে যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার সাড়াপোল গ্রামে জন্মগ্রহণকারী রেবেকা টপি ২০০১ সালে যশোর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করে তিনি নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

পেশাগত জীবনে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক এবং শার্শা উপজেলায় বাংলা বিষয়ে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কর্মরত আছেন। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সাহিত্য চর্চায় তাঁর রয়েছে গভীর অনুরাগ। তিনি ‘কৃষ্টিবন্ধন’ (শার্শা শাখা)-এর সভাপতি এবং ‘দ্যোতনা সাহিত্য পরিষদ’ ও ‘পথিক সাহিত্য পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে সাহিত্য অঙ্গনে কাজ করছেন।

২০২৪ সালে তার প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘ তোমায় বলছি’ প্রকাশিত হয়েছে। এর বাইরেও চারটি যৌথ কাব্যগ্রন্থে তার কবিতা স্থান পেয়েছে। বর্তমানে তার রচিত উপন্যাস এবং শিশুতোষ ছড়া ও গল্পের বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী। লেখালেখি ও ভ্রমণের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখা তার অন্যতম ব্রত। শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি সমাজ ও সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন। তার লিখিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ধ্রুব নিউজের উপদেষ্টা সম্পাদক ড. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ

প্রশ্ন: "খড়ের গম্বুজ" শব্দবন্ধটি শুনলে আপনার মনে প্রথম কীসের ছবি বা স্মৃতির উদ্রেক হয়?

রেবেকা টপি : খড়ের গম্বুজ শব্দটি শুনলেই বিশেষ একটা ভালোলাগায় মনটা ভরে যায়। কারণ ধ্রুব নিউজের বৈশাখী আয়োজনে কবি আড্ডায় 'খড়ের গম্বুজ' নামে  সুন্দর একটি প্লাটফর্মের সাথে পরিচয় ঘটে।  যেখানে গাম্ভীর্যের হাতছানি নয়,সরসপন্থায় পরিচ্ছন্ন স্বতন্ত্র লেখার মাধ্যমে নতুন লেখকদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন: এই তীব্র যান্ত্রিক ও নাগরিক সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের শিকড় বা মাটির কাছাকাছি থাকাটা একজন লেখকের জন্য কতটা জরুরি?

রেবেকা টপি: এই তীব্র যান্ত্রিক ও নাগরিক সময়ে দাঁড়িয়ে একজন লেখক  পরিবার,সমাজ এবং পারিপার্শ্বিক দৃশ্যগত বাস্তবতা ও তার শিল্পসত্তা দিয়ে যেভাবে আবিষ্কার করেন এবং তার রূপান্তর ঘটে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ইত্যাদি লেখার মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে তার বলিষ্ঠ স্বকীয়তা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি পাঠকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ থাকে। তাই একজন লেখকের এই অস্থির সময়ে নিজের শিকড় ও মাটির কাছাকাছি থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি।

প্রশ্ন: আপনার লেখায় গ্রামীণ জীবন, লোকজ উপাদান কীভাবে জায়গা করে নেয়? কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে কি?

রেবেকা টপি:

"মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে,

 আমি আর বাইতে পারলাম না "

পল্লী প্রকৃতির চিরন্তন ঐতিহ্যের উপর ভর করে এ ধরনের লেখার আবেদন সত্যি  মনোমুগ্ধকর।

একজন কবি সাহিত্যিকের লেখায় মূল উপাদান মানুষ, প্রকৃতি ও তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা। একজন লেখক যত বেশি সাধারণ মানুষের জীবনী পড়তে পারেন, তত বেশি তার কলমের আঁচড়ে জীবনমুখী লেখা বেরিয়ে আসে। এক্ষেত্রে বলা যায় আমার শৈশব, কৈশোর গ্রামীণ পরিবেশে কেটেছে, যার ফলে আমার লেখায় সহজে লোকজ উপাদান জায়গা করে নেয়।

প্রশ্ন: আমরা কি ক্রমশ আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যিক রূপগুলো হারিয়ে ফেলছি? সেই অভাব কীভাবে পূরণ করা যেতে পারে?

রেবেকা টপি: এই যান্ত্রিকতার যুগে হয়তো কিছুটা হারাতে বসেছি। তবে কবি সাহিত্যিকরা যদি প্রাণ খুলে আপন স্বাধীনতায়, স্বকীয়তায় লিখতে পারেন তবে সেই অভাব পূরণ সম্ভব ।কোন প্রত্যাশা বা প্রাপ্তির আশায় নয়, আপন দায়বদ্ধতা থেকে লিখলে তা অবশ্যই এক সময় সমাদৃত হবে।

প্রশ্ন: এমন কোনো বই বা সাহিত্যকর্মের কথা বলবেন, যা পড়ার পর আপনার মনে হয়েছে—এটি সরাসরি মাটির গন্ধ থেকে তৈরি?

রেবেকা টপি:  পল্লী কবি জসিম উদ্দিন, জীবনানন্দ দাশ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু কালজয়ী লেখায় সরাসরি মাটির গন্ধ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: আপনার লেখার আদর্শ পরিবেশ কোনটি? লেখার সময় কোনো বিশেষ অভ্যাস বা অনুঘটক কি আপনাকে সাহায্য করে?

রেবেকা টপি: আমার লেখার আদর্শ পরিবেশ কোলাহলমুক্ত গোধুলীরাঙা শেষ বিকেল ও রাতের অবসর। চারপাশের নানা পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে কল্পলোকে নিয়ে যায় এবং আত্মগত ভাবরসে সিঞ্চিত হয়ে নতুন সৃষ্টিতে সহায়তা করে। মূলত এগুলোই আমার লেখায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন: আপনার কোনো জনপ্রিয় লেখার পেছনের এমন কোনো অজানা গল্প আছে, যা পাঠক বা দর্শকরা আগে কখনো শোনেনি?

রেবেকা টপি: সন্তানসম প্রতিটি লেখার পেছনে এক একটি গল্প আছে যার অন্তর্নিহিত সত্যটা একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে। আঞ্চলিক ভাষায় আমার লেখা একটি কবিতা "'আমরা দুইডা খাইয়া বাঁচি' কবিতাটি অনেকে বেশ পছন্দ করেন। কবিতাটি একজন পাহাড়ী নারীর জীবন নিয়ে লেখা । তবে পাঠকের ভালোবাসা এবং অনুভূতি আমার বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন: লেখার শুরুর মুহূর্তের যে মানসিক লড়াই বা প্রথম লাইনটি লেখার দ্বিধা , তা আপনি কীভাবে পার করেন?

রেবেকা টপি: আসলে একটি লেখার প্লট যখন মাথায় আসে তখন সেটা কোথা থেকে শুরু করব এমন একটি দ্বিধা কিছু সময় হয় । তবে যখন একগ্রচিত্তে লেখায় মনোযোগ দেই তখন দ্বিধা কাটিয়ে শুরুটা মাথায় চলে আসে।

প্রশ্ন: একটি লেখা শেষ হওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন হয়? আপনি কি নিজের লেখা নিয়ে সহজে সন্তুষ্ট হতে পারেন?

রেবেকা টপি: মনের ভেতর যখন একটি প্লট কল্পনা করি, তখন লেখার জন্য একটা অস্থিরতা ভেতরে ভেতরে কাজ করে এবং লেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটা থাকে। লেখা শেষ হলে একটা প্রশান্তি  হৃদয় মন ছুঁয়ে যায়।

সত্যি কথা বলতে আমি এ যাবত যত লেখা লিখেছি তাতে সন্তুষ্টির  পরিমাণ কম । বরং নিজেই নিজের সমালোচক হয়ে কাজ করি এবং অপূর্ণতার খাতায় যোগ হয় নিজের প্রতি এক একটি অভিযোগ।।

প্রশ্ন: যদি আপনাকে আপনার নিজের যেকোনো একটি চরিত্র বা কবিতার লাইনের সাথে তুলনা করতে বলা হয়, আপনি কোনটি বেছে নেবেন এবং কেন?

রেবেকা টপি: বিশেষ একটা গোপন সত্য আজ ঘরের গম্বুজে প্রকাশ করতেই হলো। আমি যখন কোন পুরুষ চরিত্রে নিজেকে দাঁড় করিয়ে লিখি, তখন কল্পনায় যে নারী চরিত্রটি আসে তার নাম বীনা। এই বীনার জীবনের নানা অসঙ্গতি বা প্রেম আমার লেখায় প্রকাশ পায়। তাই আমি বীনার চরিত্র এবং তাকে কেন্দ্র করে একটা লেখা বেছে নেবো।

আমার লেখা একটি কবিতা ' বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় তোমায় মনে পড়ে' কবিতার চারটি লাইন উল্লেখ করা যায়-

মনে পড়ে বীনা ,

একদিন আষাঢ়ের সন্ধ্যায় তোমায় এলোচুল ভিজেছিল বৃষ্টিতে ?

আমি তোমার চুল থেকে ফোটায় ফোটায় পড়ার বৃষ্টি ধরেছিলাম ।

কখনো হাত বাড়িয়ে খানিকটা বৃষ্টি ছুঁড়েছিলাম তোমার মুখে।

তোমার লাজুক চোখ, তোমার প্রেমের বৃষ্টি ,বাইরের বৃষ্টির সাথে মিলে হয়েছিল একাকার।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রিলস/শর্ট ভিডিওর যুগে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে কি? সাহিত্যকে এর সাথে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে?

রেবেকা টপি: বর্তমানে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে এ কথা সত্যি, তবে একশ্রেণীর মানুষ যারা সাহিত্য প্রেমি,তারা শত ব্যস্ততা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিকতায় গা ভাসালেও পড়ার প্রতি প্রেম তাদের আছেই। হয়তো বই নয়তো অন্য মাধ্যম ,যেমন মোবাইল কম্পিউটারের তারা  তাদের সে তৃপ্তি মেটাতে চেষ্টা করেন। আর আধুনিকতার সাথে সাথে লেখার প্লট পরিবর্তন হলেও আবেগ অনুভূতির জায়গা সেই আগের মতই আছে।

প্রশ্ন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর এই যুগে মানুষের আবেগের জায়গা থেকে মৌলিক সাহিত্য সৃষ্টির ভবিষ্যৎ আপনি কেমন দেখছেন?

রেবেকা টপি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এর যুগে মানুষ বিভ্রান্তির জালে আটকে যাচ্ছে। তাই মৌলিক সাহিত্যিক সৃষ্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলেও সত্য সবসময় ছাই চাপা আগুনেও নিজ স্বরূপে অনন্য। এক্ষেত্রে কবি লেখকদের সজাগ দৃষ্টি মৌলিক সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম ।

প্রশ্ন: সমকালীন তরুণ লেখকদের লেখার মধ্যে কোন শক্তি বা কোন সীমাবদ্ধতা আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে?

রেবেকা টপি: বর্তমান তরুণ লেখকদের জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি বলতে পারি পড়ার বা জানার ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট উদাসীনতা ,সময় স্বল্পতা এবং প্রত্যাশাটাও বেশি।

প্রশ্ন: একটি ম্যাগাজিন বা পত্রিকার ছোট পরিসরে সাহিত্যচর্চা এবং একটি আস্ত বই লেখার মধ্যে একজন লেখকের মানসিকতায় কী তফাত থাকে?

রেবেকা টপি: বিন্দু থেকে সৃষ্টি সাহিত্যকর্ম সময় ,পরিস্থিতি বা চর্চার মাধ্যমে পরিপক্কতায় রূপ নেয়। একজন কবি সাহিত্যিক ছোট পরিসরে সাহিত্য চর্চা করতে করতে একসময় গহীন মনের সুপ্ত বাসনায় স্বপ্ন দেখে তার সৃষ্টিকর্মকে বইয়ের মলাতে আবদ্ধ করতে। এক্ষেত্রে তার সৃষ্টি মলাটবদ্ধ না হলেও তার লেখক সত্তা কখনো মুখ থুবড়ে পড়ে না। প্রচার বা প্রসারই একমাত্র লক্ষ্য নয় , কালজয়ী সৃষ্টি গভীর অনুরাগ থেকেই হয়ে থাকে।

প্রশ্ন: বর্তমানের সাহিত্য সমালোচনা কি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে? একজন লেখকের মূল্যায়নে পাঠকের ভূমিকা এখন কতখানি?

রেবেকা টপি: হ্যাঁ ,একথা অবশ্যই অনস্বীকার্য । একজন লেখকের মূল্যায়নে পাঠকের গঠনমূলক সমালোচনা একান্ত প্রয়োজন। লেখার প্রশংসা নয় সমালোচনাই হতে পারে লেখকের বলিষ্ঠ লেখার বা এগিয়ে  নেওয়ার চালিকা শক্তি।

প্রশ্ন: জীবনের শুরুর দিকের আপনার যে সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, সময়ের সাথে সাথে তাতে কী ধরণের বড় রূপান্তর বা পরিবর্তন এসেছে?

রেবেকা টপি: মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালে সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে বিভিন্ন লেখকের বই পড়তাম। আস্তে আস্তে শখ থেকেই ছোট ছোট লেখা, এরপর কলেজ জীবনে একটু ব্যাপ্তি আর সেই পথ ধরেই আজকের অবস্থান। প্রথমদিকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আজকে আমার লেখার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পুরনো লেখকদের এবং আধুনিক লেখকদের অনেক লেখা পড়ার মাধ্যমে জানার পরিধিতেও একটু পরিবর্তন এসেছে। আর সাহিত্য সৃষ্টিতে পরিবর্তন, পাঠক বিচার করতে পারবেন।

প্রশ্ন: একজন লেখকের কি সমাজ বা রাজনীতির প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা থাকা উচিত, নাকি সাহিত্য কেবলই খাঁটি শিল্পের জন্য হওয়া উচিত?

রেবেকা টপি: অবশ্যই দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। কারণ সমাজের অসঙ্গতি বঞ্চিত অবহেলিত মানুষের কথা, জাগরণের কথা যদি কবি হৃদয়ে রেখাপাত না করে, মানুষকে উজ্জীবিত করতে না পারে- তবে সে সৃষ্টি কখনো কালজয়ী হতে পারে না।

এক্ষেত্রে আমরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি উল্লেখ করতে পারি। এই কবিতাটি যুগ যুগ ধরে একই সুরে মানব মনে বিদ্রোহের স্বরূপ জাগিয়ে তোলে।

প্রশ্ন: এমন কোনো লেখার স্বপ্ন কি আপনার আছে, যা আপনি এখনো লিখে উঠতে পারেননি কিন্তু একদিন লিখতে চান?

রেবেকা টপি: অবশ্যই, অনেক লেখার ভিড়ে আমি আমার আত্মজীবনীমূলক একটি উপন্যাস লেখার স্বপ্ন লালন করি। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি।

প্রশ্ন: আপনার জীবনের এমন কোনো ঘটনা বা ট্র্যাজেডি আছে, যা আপনার লেখার পুরো মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল?

রেবেকা টপি: ২০১৭ সালে আমার জীবনে একটা বড় বিপর্যয় আমাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। যা আমার অস্তিত্ব, অবস্থান সম্পর্কে আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায় এবং তখন থেকেই আমার লেখায় নতুন মোড় নিতে শুরু করে

প্রশ্ন: "খড়ের গম্বুজ"এর পাঠক এবং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

রেবেকা টপি: ঘরের গম্বুজের পাঠকদের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা আর হৃদয় নিঙড়ানো ভালোবাসা। পাঠককে বলব খড়ের গম্বুজের সাথে থাকুন সব সময়। গতানুগতিকতা নয় মূল্যায়ন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন, যা লেখকের আত্মসমালোচনা , আত্মশুদ্ধি ও সমৃদ্ধির পথে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি। ভালোবাসুন বইকে, গড়ে তুলুন পাঠাভ্যাস । প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একটা বই হোক আপনার একান্ত সঙ্গী। 

শুভ কামনা সকলকে।

 

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)