বেনাপোল প্রতিনিধি
খালাসের অপেক্ষায় পণ্যবোঝায় ট্রাক ছবি: ধ্রুব নিউজ
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থলবন্দর বেনাপোলে তীব্র জনবল সংকটে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় আমদানি করা পণ্য খালাস, লোড-আনলোড ও তদারকিতে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। এতে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিনে শেষ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে মোট ২১৬টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৪১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে ৭৫টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদেও রয়েছে জনবলসংকট। ডেপুটি পরিচালকের চারটি পদের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। এ ছাড়া গত ৩ আগস্ট বন্দরের পরিচালককে অন্যত্র বদলি করা হলেও এখনো ওই পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
জনবলসংকটের প্রভাব পড়ছে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও গুদামের কার্যক্রমেও। ওয়ারহাউস সুপারিনটেনডেন্টসহ বিভিন্ন কর্মচারী পদ শূন্য থাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে পণ্য ওঠানো-নামানো ও তদারকির কাজে সময় বেশি লাগছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, “বন্দরে জনবল না থাকায় আমদানিকৃত পণ্য যথাসময়ে লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। ফলে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিনে শেষ করতে হচ্ছে। বেনাপোলের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ যুক্ত। এই বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হলে এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন বাজারেও পড়বে।”
বেনাপোল বন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, কোনো আমদানিকারকের প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট শেডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা না থাকলে পণ্য লোড বা আনলোডের কাজ শুরু করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে এক দিনের কাজ কখনো কখনো দুই দিন পরও শেষ করতে হচ্ছে। পণ্য খালাসে দেরি হলে ট্রাক আটকে থাকে। এতে আমদানিকারককে প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাক ভাড়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যুক্ত হয়ে ভোক্তার ওপর চাপ তৈরি করে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, “সমস্যার সমাধানে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি বর্তমান জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বেনাপোলে দীর্ঘদিন ধরে যেসব পদ খালি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি ঢাকায় অনুমোদিত পদের অতিরিক্ত থাকা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে পদায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।”
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের পরিমাণ বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বন্দরের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে পণ্য ওঠানো-নামানো ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। তাঁরা দ্রুত বন্দরটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ জরুরি।
সমস্যার কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, “বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনে যাতে দ্রুত জনবল নিয়োগ করা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।”