Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

নওয়াপাড়া পৌরসভা কেডিতে, উন্নয়ন নাকি অযৌক্তিক প্রশাসনিক চাপ?

মাহফুজুর রহমান মাহফুজুর রহমান
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট,২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট,২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
নওয়াপাড়া পৌরসভা কেডিতে, উন্নয়ন নাকি অযৌক্তিক প্রশাসনিক চাপ?

শোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভাকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) আওতাভুক্ত রাখা কি আসলে যুক্তিযুক্ত? নওয়াপাড়া একটি স্বতন্ত্র শিল্প-বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিকশিত হয়েছে। তাই খুলনা মহানগরকেন্দ্রিক একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় নওয়াপাড়াকে যুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্ন এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নওয়াপাড়া কেবল একটি পৌরসভা নয়; এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকেন্দ্র। ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা এই জনপদের অর্থনীতি খুলনা শহরের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং যশোর, খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সঙ্গে নওয়াপাড়ার নিজস্ব বাণিজ্যিক যোগাযোগ রয়েছে। নওয়াপাড়ার ব্যবসা, শিল্প, পরিবহন, নদীবন্দর ও স্থানীয় অর্থনীতির যে স্বতন্ত্র চরিত্র, সেটিকে বিবেচনায় না নিয়ে কেবল প্রশাসনিক সুবিধার যুক্তিতে কেডিএর আওতায় রাখা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হচ্ছে।

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় রাখার প্রধান যুক্তি সাধারণত হয়—পরিকল্পিত নগরায়ণ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা। এসব প্রয়োজন নওয়াপাড়ারও আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নওয়াপাড়ার উন্নয়নের জন্য কি কেডিএর আওতাভুক্ত থাকায় একমাত্র সমাধান? ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কেডিএ নওয়াপাড়ার জন্য কি কি উন্নয়ন করেছে?

নওয়াপাড়ার প্রয়োজন একটি নওয়াপাড়া-কেন্দ্রিক দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা। এখানে শিল্পাঞ্চল, নদীবন্দর, আবাসিক এলাকা, বাজার, সড়ক যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ—সবকিছুকে সমন্বিত করে পরিকল্পনা করতে হবে। স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এমন পরিকল্পনা নওয়াপাড়ার জন্য অধিক কার্যকর হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় জনগণের মতামত। একটি এলাকার নগর পরিকল্পনা শুধু সরকারি দপ্তরের কাগজে-কলমে নির্ধারিত হওয়ার বিষয় নয়। ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা, জনপ্রতিনিধি, ভূমিমালিক, পেশাজীবী, পরিবেশকর্মী এবং সাধারণ নাগরিক—সব পক্ষের মতামত নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নওয়াপাড়ার মতো বাণিজ্যিক ও শিল্পনির্ভর জনপদের ক্ষেত্রে নতুন কোনো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় নেওয়ার আগে সম্ভাব্য সুফল ও ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হওয়া উচিত ছিলো।

কেডিএর আওতায় থাকলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন কিছু সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা— অথচ ২৪ বছরে কোনো উন্নয়ন তাদের মাধ্যমে এখানে হয়নি। কিন্তু একই সঙ্গে ভূমি ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ, ভবন নির্মাণে অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা, ব্যবসা ও শিল্প স্থাপনে অতিরিক্ত প্রশাসনিক স্তর এবং স্থানীয় সরকারের ভূমিকা সংকুচিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতেছে। ফলে শুধু ‘পরিকল্পিত নগরায়ণ’ শব্দটি ব্যবহার করেই সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক প্রমাণ করা যায় না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নওয়াপাড়ার সমস্যা কি আসলে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অভাব, নাকি কার্যকর নগর ব্যবস্থাপনার অভাব?

নওয়াপাড়ায় সড়ক ও যানজট, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত স্থাপনা, নদীদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাজার ব্যবস্থাপনা, শিল্পবর্জ্য এবং নগর অবকাঠামোর নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।

নওয়াপাড়ার জন্য একটি স্বতন্ত্র মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা যেতে পারে। এই পরিকল্পনায় থাকবে আধুনিক নদীবন্দর ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্যিক জোন, আবাসিক এলাকা, প্রশস্ত সড়ক ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা, খাল ও জলাধার সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়গুলো। প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। এতে নওয়াপাড়ার স্বাতন্ত্র‍্যও বজায় থাকবে, আবার পরিকল্পিত নগরায়ণের পথও তৈরি হবে।

উন্নয়ন মানেই কোনো বড় শহর বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্ত থাকা নয়। উন্নয়ন মানে হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করা, পরিবেশ রক্ষা করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগর নিশ্চিত করা।

নওয়াপাড়াকে কেডিএর আওতায় থাকার সিদ্ধান্ত তাই আবেগ দিয়ে নয়, তথ্য-উপাত্ত, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্থানীয় মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত ছিলো। একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে নওয়াপাড়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন নওয়াপাড়ার জন্য নওয়াপাড়া-কেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা।

খুলনার উন্নয়ন প্রয়োজন, নওয়াপাড়ারও উন্নয়ন প্রয়োজন। কিন্তু এক এলাকার উন্নয়ন মডেল অন্য এলাকার ওপর চাপিয়ে দেওয়াই যে সর্বোত্তম সমাধান—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নওয়াপাড়াকে উন্নয়নের আওতায় নিতে হবে, কিন্তু প্রশ্ন হলো—কার পরিকল্পনায়, কার মতামতে এবং কার স্বার্থে?

২০০২ সালে খুলনা থেকে ৩২ কি:মি: দুরের শহর নওয়াপাড়াকে কেডিএর আওতাভুক্ত করে প্রকাশ করা গেজেট বাতিল করতে হবে। এটি প্রশাসনিক চাপ বাড়ালেও বাস্তবে নওয়াপাড়ার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত একটি সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে নওয়াপাড়া হারিয়ে ফেলবে তার স্বাতন্ত্র।

লেখক:  ছাত্রশিবিরের অভয়নগর উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি

 

*মতামত লেখকের নিজস্ব

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)