বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

শ্বশুরের সম্পত্তি দখলে নিতে ১৫ লাখের ‘কিলিং কন্ট্রাক্ট’: পরিকল্পনাকারী জামাই পরশ

ধ্রুব ডেস্ক ধ্রুব ডেস্ক
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি,২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
শ্বশুরের সম্পত্তি দখলে নিতে ১৫ লাখের ‘কিলিং কন্ট্রাক্ট’: পরিকল্পনাকারী জামাই পরশ

❒ কিলিং মিশনের সদস্য শাহিন কাজী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ছবি: সংগৃহীত

যশোরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে। স্রেফ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি একচ্ছত্র দখলে নেওয়ার লালসায় নিজের শ্বশুরকে হত্যার মাস্টারপ্ল্যান সাজান জামাই পরশ। ১৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়া করা ৭ জন খুনি তিনটি মোটরসাইকেলে চড়ে এই ‘কিলিং মিশনে’ অংশ নেয়।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালতে ঘাতক চক্রের সদস্য শাহিন কাজী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের পর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই পরশ তার শ্বশুরের বিশাল সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি শহরের পেশাদার খুনিদের সাথে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন।

জবানবন্দিতে শাহিন কাজী জানায়, ৩ জানুয়ারি হত্যাকাণ্ডের দিন সন্ধ্যায় জামাই পরশের উপস্থিতিতেই ঘাতকরা একত্রিত হয়ে নেশা করে। এরপর পরশের দেওয়া ১ লাখ টাকা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তিনটি মোটরসাইকেলে করে মোট ৭ জন শুটার মিশন শুরু করে। আলমগীর হোসেন তার অফিস থেকে বের হওয়ার পর  খুনিরা তাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতে থাকে। আলমগীর হোসেন যখন শংকরপুর বটতলা মোড় পার হয়ে বাড়ির দিকের নির্জন রাস্তায় প্রবেশ করেন, ঠিক তখনই প্রথম মোটরসাইকেলে থাকা শুটার মিশুক খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমগীর হোসেন মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়লে ঘাতকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পুনরায় ফিরে এসে যাচাই করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তিনটি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন পথে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। চুক্তির বাকি টাকা ওই রাতেই দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতা শুরু হওয়ায় ঘাতকরা আর জামাই পরশের সাথে দেখা করতে পারেনি।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে প্রধান আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পুলিশ দ্রুততম সময়ে মূল পরিকল্পনাকারী পরশ, সহযোগী সাগর, শুটার মিশুক এবং সর্বশেষ শাহিন কাজীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানান, ‘আদালত আসামি শাহিন কাজীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক অন্যান্য ঘাতকদের গ্রেফতারে ডিবির বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 225 x 270 Position (2)
Position (2)