শেখ জালাল
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে আটক যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার। এই আটককে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ দাবি করে রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে যশোরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি জানিয়েছে, শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে ও বিপক্ষে প্রায় ৭০০টি আবেদন জমা পড়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে কমিটি নিশ্চিত করেছে।
রবিবার দুপুরে যশোর সার্কিট হাউসের সামনে থেকে শিক্ষকদের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় দুদক কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর যশোর প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা শিক্ষা কর্মকর্তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্দোষ এবং তাকে সুপরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তারা ঘটনার মূল হোতা ও অভিযোগকারী নুরুন্নবীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি একজন সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা নুরুন্নবীর মতো ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং স্যারের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’
কেশবপুর উপজেলার আলতাপ পোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘আশরাফুল আলম স্যারের ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা সব শিক্ষক আজ ঐক্যবদ্ধ। আমরা এই আটকের সুষ্ঠু বিচার চাই।’
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের একটাই দাবি—এই ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো কুচক্রী মহল এ ধরনের সাহস না পায়।’
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গঠিত তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গত শনিবার থেকে যশোরে অবস্থান করছে। কমিটির প্রধান হলেন অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—উপ-পরিচালক তাপস কুমার অধিকারী ও সহকারী পরিচালক (খুলনা) মোহাম্মদ ফজলে রহমান।
তদন্ত দল শনি ও রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত যশোর সার্কিট হাউসে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও গণশুনানি পরিচালনা করে।
তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা গত দুই দিন ধরে নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়েছি। এ পর্যন্ত শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে ও বিপক্ষে প্রায় ৭০০টি আবেদন জমা পড়েছে। আমরা অভিযোগকারী নুরুন্নবীর বক্তব্যও বিস্তারিত শুনেছি। সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অধিদপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’