❒ যশোর-২
ধ্রুব রিপোর্ট
❒ যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। ছবি: ফাইল
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের নির্বাচনী সমীকরণ নতুন মোড় নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণ দাখিলের জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছে কমিশন।
আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) আপিল শুনানির নির্ধারিত দিনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। এর আগে, গত ১ জানুয়ারি ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও যশোরের জেলা প্রশাসক তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। মূলত ২৪ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডের ৩০ হাজার টাকার অপরিশোধিত বিলের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র কমিশনে জমা দেওয়া হয়।
আজকের শুনানিতে ঋণ সংক্রান্ত বিষয়টির সুরাহা হলেও নতুন করে যুক্ত হয় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ। এই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে মর্মে কমিশনে আপিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন তাকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণপত্র দেখানোর নির্দেশ দিয়ে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা স্থগিত রাখে।
শুনানি শেষে এক বিবৃতিতে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, আমার অজ্ঞাতে ২৪ বছর পূর্বের একটি ক্রেডিট কার্ডের বিল সংক্রান্ত কাগজপত্র ইতোমধ্যে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্ব ফেরত দেওয়ার যাবতীয় নথিপত্রও আমরা দাখিল করেছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ১৬ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ সহায় হলে রায় আমাদের পক্ষেই আসবে। আমি চৌগাছা-ঝিকরগাছাবাসীকে শান্ত থাকার ও আমার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি ভিডিও বার্তায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার জন্য আইন যেন সমান হয়।
এদিকে একই দিনে যশোর-২ আসনে বড় স্বস্তি পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র আগে বাতিল হলেও আজ শুনানির মাধ্যমে কমিশন তার প্রার্থিতাকে বৈধ ঘোষণা করেছে।
বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হলেও তার বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে একটি আপিল দায়ের করা হয়েছে, যার শুনানিও আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হলেও তার বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে একটি আপিল দায়ের করা হয়েছে, যার শুনানিও আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মোট ১০ জন প্রার্থীর আপিল তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। গত দুই দিনের শুনানিতে জাতীয় পার্টির ৩ জন এবং স্বতন্ত্র ১ জনসহ মোট ৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেছে কমিশন। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ছাড়াও যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের রায়ের জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ জানিয়েছেন, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।