❒ আলমগীর হত্যা
❒ আদালতে ফাঁস করলেন জামাতার নীল নকশা
ধ্রুব রিপোর্ট
❒ ভাড়াটে শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আজ আদালতে স্বীকারোক্তি দেন ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের রাজপথে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে খুনের পর ঘাতকরা ভেবেছিল তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স আর প্রযুক্তির অদৃশ্য জাল যে তাদের ছায়ার মতোই অনুসরণ করছিল, তা টের পায়নি ভাড়াটে শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক। টানা কয়েক দিনের শ্বাসরুদ্ধকর গোয়েন্দা অভিযানের পর বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ডেরা থেকেই ডিবি পুলিশের জালে আটকা পড়ে এই ‘সাইলেন্ট কিলার’। এরপর বৃহস্পতিবার আদালতে দাঁড়িয়ে মিশুক যখন তার স্বীকারোক্তি দিচ্ছিল, তখন বেরিয়ে আসে এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য—পেশাদার এই শুটারকে ভাড়া করেছিলেন খোদ আলমগীরের আপন জামাতা পরশ। নিজ হাতে ট্রিগার টেপা এই ঘাতকের জবানবন্দিতে এখন উন্মোচিত হয়েছে শ্বশুরের রক্তে জামাতার হাত রাঙানোর সেই ভয়াবহ নীল নকশা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিশুক জানায়, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে থেকেই জামাতা পরশ ও তার সহযোগীরা আলমগীরকে হত্যার পরিকল্পনা আসছিল। গত ৩ জানুয়ারি ঘটনার দিন বিকেলে মিশুক তার বেজপাড়ার বাসাতেই ছিলেন। সন্ধ্যার কিছু আগে ‘প্রিন্স’ নামে এক যুবক তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সরাসরি পরশের আস্তানায় হাজির করে। সেখানে আগে থেকেই ঘাতক চক্রের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিল। পরশ সেখানে মিশুককে ‘টার্গেট’ বুঝিয়ে দেয় এবং হত্যার নির্দেশ দেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অমি ও মিশুক একটি মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে পড়ে। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল অমি এবং পেছনে অস্ত্র হাতে পজিশন নিয়েছিল মিশুক। আলমগীর হোসেন যখন তার গন্তব্যে যাচ্ছিলেন, তখন চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে মিশুক। নিখুঁত নিশানায় গুলি চালানোর পরপরই তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ডিবির এসআই অলক কুমার দে সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ ও ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল এবং আশপাশের অন্তত ডজনখানেক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শুটারের অবয়ব ও মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে মিশুকের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের বেজপাড়া চিরুনিকল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিশুক ওই এলাকার মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে।
গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে জামাতা পরশ ও সাগরসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত জামাতা পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে সরাসরি কে গুলি চালিয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। মিশুকের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে সেই জট খুলল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পরশ কেন তার শ্বশুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল, এর পেছনে সম্পত্তি নাকি অন্য কোনো পারিবারিক গোপন কারণ রয়েছে, তা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিশুকের স্বীকারোক্তিতে নাম আসা ‘প্রিন্স’ ও ‘অমি’সহ অন্য সহযোগীদের ধরতেও ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।