Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

নদী ও বাতাস না থাকলে এই পৃথিবীর সবকিছুই অচল

মুক্তগদ্য মুক্তগদ্য
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে,২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে,২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
নদী ও বাতাস না থাকলে এই পৃথিবীর সবকিছুই অচল

দী জানে না সে কেনো ছুটে চলে, তবে ঝর্না থেকে নেয়ার পর থেকে সামনে চলাই তার স্বভাব। উঁচু থেকে নিচুতে গড়িয়ে পড়াই পানির ধর্ম। নদীর চলার পথে বাধা আসলে তা উপেক্ষা করেই দু‘কূল প্লাবিত করেই নদী ছোটে সাগরের গন্তব্যে।

বাতাসও জানে না সে কেনো প্রবাহিত হয়, কোন দিকে প্রবাহিত হয়। কখনো ঝড়ের আঘাতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে মেতে ওঠে সৃষ্টির আরেক রূপ নিয়ে। এ সবই প্রাকৃতিক। কারণ নদী ও বাতাস না থাকলে এই এই পৃথিবীর সব কিছুই অচল।

প্রকৃপক্ষে একজন কবি বা লেখক নিজেই জানে না সে কেনো লেখে। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সবাই ছোট বয়স থেকেই লেখে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে। কেউ তাকে জোর করে না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেউ তাকে হাত ধরে শেখায় না সৃজনশীল লেখা। বড়জোর ছড়া-কবিতা পড়ায়, পাঠ্য বইয়ে নিমগ্ন করতে চায়, ছবির রাজ্যে তার মনোযোগ আকর্ষণ করায় যেনো সে পড়ামুখি হয়। কিন্তু প্রকৃতি যাকে দূর থেকে টানে, দেয় নতুন চিন্তা ও চেতনা সে নিজের অজান্তেই স্কুলে খাতায় নতুন কিছু লিখে ফেলে । এক সময় সে, তার পরিজন, স্বজন ও বন্ধুবান্ধব জেনে যায় সে কিছু লেখে। সে নিজেও জানে না কী লেখা হলো। সবাই তো মাইকেল মধুসূদন দত্ত না, রবীন্দ্রনাথ না বা কাজী নজরুল ইসলাম না। তারপরেও তারা সেই ছোট বয়স থেকে আপন মনে যা আসে চিন্তায় তাই লেখে। গানের পাখি সে যত ছোটো হোক তার গান কেউ শুনুক না শুনুক আপন মনে গান গায়। এটা পাখিদের স্বভাব। স্রষ্টা আর সৃষ্টিই তাকে এই স্বভাব দিয়েছে -দিয়েছে নতুনত্ব। এ জন্যেই তার গান গাওয়া।

একজন কবি বা সাহিত্যিক তিনিও নিজের অজান্তেই লেখেন। আপন মনে লেখেন। যা তার ভালো লাগে তা লেখেন। যা তার কাছে মন্দ মনে হয় কিন্তু সমাজে ঘটছে তা দেখে তার বিদ্রোহী মন ঘৃণা করতে শেখায় এবং তিনি লেখেন। কবি চায় না প্রতিদান। আপন খেয়ালে তার মতো দেখতো চায় সুন্দর পৃথিবী। সে কথাগুলো লেখেন, মনের অজান্তে অথবা মনের প্রেষণে। তিনি লেখেন, তিনি মনে করেন এটা লিখে রাখা দরকার। এ কথাগুলো স্মরণ রাখা দরকার যে কবি বা সাহিত্যিক নিজের ভুবনে সৌন্দর্য লালন করেন। তিনি তার মতো পৃথিবীকে দেখতে চান সত্য সুন্দরের অবারিত চিত্রে ও বাস্তবতায়। পৃথিবীর প্রকৃতি মানুষ, প্রাণী আকাশ ,চাঁদ, সূর্য, নক্ষত্র, সাগর, নদী, গাছপালা, জীবন সংগ্রাম সব কিছুই তার সৌন্দর্যময়ভুবনের উপাদান। এর প্রত্যেকটির রয়েছে পৃথক রূপ, রং, নিয়ম ও শৃঙ্খলা। এগুলো সুন্দরের লীলাভূমি।

কোনো কারণে কবি বা লেখকের দৃষ্টিতে সেই সুন্দরের চিত্রপটে কালিমা লেপন হলে, শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটলে, অসূরের প্রবেশ ঘটলে কবির চিন্তাজাল ছিন্ন হয়, বাধাগ্রস্থ হয় ছন্দ-রূপ-রং ও ঐশ্বর্য, কবিচিত্ত চঞ্চল হয়। কিছু বলতে, কিছু বোঝাতে, জানাতে অথবা প্রতিবাদ করতে তার কলম ঝলমল করে ওঠে নদীর ধারার মতো লেখার প্রবাহে। কবি বা সাহিত্যিক যেমন সুন্দরকে উপস্থাপন করতে চান তেমনি অসুন্দর ও বিশৃঙ্খলা দেখিয়ে দিতে চান মূলত কিছু বলতে চান যা তা নিজের এবং ঐশ্বরিক দানও বটে। সন্তান জন্ম দেয়ার ক্ষেত্রে মাতাদের যেমন প্রসব বেদনা ওঠে কবিও নিজ মনে ছটফট করেন নতুন সৃষ্টির উন্মাদনায়। সুন্দরের প্রকাশে অসুন্দর দমনে বা বিরোধে কবির সৃষ্টি ছন্দবদ্ধ। ব্যক্তি অনুভূতিকে সামষ্টিক করে তোলার প্রয়াস থেকে। কবির সৃষ্টি যন্ত্রনা কবিকে লিখতে বাধ্য করে। কে পড়বে কে মানবে কে সমালোচনা করবে এটা নিয়ে তার ভাবনার জগৎ স্পন্দিত হয় না। সৃর্ষ্টিই তার কাছে মুখ্য। কবি বা লেখক সমাজের স্বীকৃতির অপেক্ষা করে না আপন মনে সৃষ্টি ও স্রষ্টার সাধনা সুন্দরের আরাধনাই তার লক্ষ্য।

কেনো লিখি মাঝে মাঝে ভাবি। মনের ভিতর হঠাৎ চাপ বোধ করি, সুষ্টির যন্ত্রণা বোধ করি কিছু লিখতে না পারলে, আমার অনুভূতি ও মনের গহীনে থাকা আমার ভাবনার সৌন্দর্য অনিয়ম, অসুন্দরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তুলতে না পারলে ক্লান্ত হই। তাই লিখি। 

লেখক: কবি

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)