মুক্তগদ্য
মূলত কবিতা লেখা হয় একটা দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে।
ব্যক্তিগত আবেগ, নৈতিকতার অনুভূতি—অভিজ্ঞতা
বোধের মিথষ্ক্রিয়া স্বভাব সেসবের যোগাযোগে নতুন
পরিচয় ঘটানো সমাজচিন্তা, সাইকোলজি এবং ভাব,
রূপের ইজমসহ সকলকিছুর সঙ্গে ফিলোসোফি বজায়
রেখে, সাহিত্যের কিবোর্ডে আঙুল চাপিয়ে অনুভূতির
ট্রেন্ড প্রকাশ করবার ফলাফলে অফুরন্ত আনন্দ,
অনুভবের মতো সহজ সঙ্গ যাপন করি।
এমন অবলীলায় সত্যকথা বলা মোটেও লজ্জার নয়
বরং আনন্দের। খ্যাতির সংকল্প ও আত্মবিশ্বাসে স্বপ্ন
দেখা তাতে বরং আমি ভাবিত, যাপিত ভেবে
বাস্তবতার নিরিখে সারস্বত বোঝাপড়ার মতো একক
সংবেদনশীল। রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পালাবদলের আধুনিক প্রভাবের মধ্যদিয়ে প্রতিটি ব্যক্তিজীবনের মতো
—একজন কবি, সাহিত্যিক
মেটাফোর হুলস্থুল আচমকা হাওয়া গায়ে না মেখে পারেন না।
খ্যাতি সম্পন্নদের মতো আত্মগরিমা ও মর্যাদা এমন অদ্বিতীয়ের মধ্যে সহনীয় মাত্রা নিজের দ্বারাই গোছানো
সম্ভব এবং আত্মকেন্দ্রিক অভিজাত ভাবনা খুবই সক্রিয়ভাবে শুরুটা এনে দেয়।
সেসব আত্মবিশ্বাসের জায়গাটাও সুদৃঢ়ভাবে আগলে রাখবার প্রচেষ্টা থাকে বরং।
সাহিত্যকে আমূল পাল্টে দিতে অসামান্য মেধা ও সৃষ্টিশীলতার যথেষ্ট সৎসাহস, নিয়ন্ত্রণহীন আত্মবিশ্বাস
প্রয়োজন। এমন আত্মনির্ভরশীল শেকড় থেকে বটবৃক্ষ মগডালের পুরোটা স্ব-ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতি,
বই পাঠের ব্যাপারটা পাঠকগণ যথেষ্ট অভিজ্ঞতার খাতায় সামষ্টিক মাত্রাও যোগ করেছেন।
সেক্ষেত্রে দৃশ্যগত ও অদৃশ্যগত পাঠক হিসেবে আমিও হৃদযুক্ত সকল পাঠকের প্রতি, সকল বইপোকার প্রতি সাধুবাদ জানান দিই।
কেননা, বর্তমান সময়ে সামাজিক হতে চাওয়া
সেটাই অনুধাবন করতে বুঝি, যেমন লেখালেখির সারসত্য বলতে গেলে প্রথমত, যে বিষয়টি আবিস্কার করা যায়
শিল্প—সাহিত্যের আবির্ভাবলগ্নে আধুনিক পথ—পরিক্রমায় অপ্রতিরোধ্য টানাপোড়নকে পেছনে ফেলে চূড়ান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া কোনো এক ইতিকথার
সূত্রপাতে উপমা, শব্দ, ইজমের বাক্য বিশেষ দেখা পেয়েছি ফলে এতটা নান্দনিক চরিত্রে রূপান্তরিত
সকল কিছু।
অতিবাহিত দশক শেষে বর্তমানে দ্বিতীয় দশকের
নির্মাণাধীন নতুনত্ব ধারায় প্রভাব ও প্রতিপত্তি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও নানামুখির বৈশিষ্ট্যতার প্রতিফলন আমাকে বেশ আনন্দ দেয়, তাতে জিইয়ে থাকি। দৈনিক, নগরকেন্দ্রিক, শহরকেন্দ্রিক,
লিটলম্যাগ থেকে গোছানো জম্পেশ আড্ডায় বহুমাত্রিকতায় অনন্য বৈচিত্র্যধর্মী পর্যালোচনা,
কবিতায়, গানে বিবিধ রকমের স্পষ্টভাব, সভ্যতার তল্লাটে, এইসব ব্যাপক ত্বরান্বিত বা প্রভাবিত হচ্ছে
ফলে সাহিত্যের ইতিহাসে মহত্তম, উত্থান, বোধ ও প্রবোধে সামাজিক জীবন,—মহাবিশ্বে সকল কওমের ভাষায় গোছানো মওসুমে নিজস্ব থিম ও মিথ খুঁজে পাই। এই অসামান্য সময়কে পাওয়া সেটা বা কম কীসের!
এর ধারাবাহিকতার স্রোতে অনেক তর্ক জটিলতা থাকলেও বর্তমানের দোরগোড়ায় এসে দিকনির্দেশক হিসেবে অগ্রগামী ভাবনা, চেতনা ও শিল্পোত্তীর্ণ চর্চা দ্বিগুণ বেড়েছে। মনে করি, আমিও চারাশিশুর মতো চকলেট পছন্দের নমুনায় তেমনই প্রায় আবেদনকারী
ও দারুণভাবে অনুরাগী।
কেন লিখি?
'শাদা কাগজের পুরনো উপমা এখনো লেখা হয় নি—
ভেবে সেটাই খুঁজছি...
লেখক: কবি