ধ্রুব ডেস্ক
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ শনিবার (২৩ মে) বিকেলে প্রতিবেদনটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুতের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) আদালতে তা জমা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বিকেলে ময়মনসিংহের ত্রিশালের নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
চার্জশিট জমাদানের প্রস্তুতি
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মামলার চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞানভিত্তিক এই ডিএনএ প্রতিবেদনটি আদালতে অপরাধ প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামীকালের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তির আলটিমেটাম
ত্রিশালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন— “রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাআল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ব্যক্তি এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।”
প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, পুরো বিচার প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে পুলিশ ইতিমধ্যেই সোহেল রানাকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করেছে।