কবিতা
বৈশাখ হেঁটে চলে রমনার বটমূলে
হায়, ঘরছাড়া বৈশাখ!
কৃষকের মাথাল ছেড়ে কবেই পেতেছো সংসার
ভবনের জঞ্জালে ভরা শহরের করিডোরে!
মাঠে-ঘাটে ঘোরা আমকুড়ানো ছেলে মেয়েদের সঙ্গ ছেড়ে
নাগরিক উৎসবে ঠিকানা তোমার,
পোশাকে-মেলায়-শাড়িতে-নারীতে আর রমনার বটমূলে।
যে কৃষক –কৃষাণীর পাতে বছরের একটি দিনেও
জোটেনা এক টুকরো ইলিশ
তাদের নামে চলে ইলিশ পান্তার আয়োজন!
নাগরিক বৈশাখ এখন রঙ মেখে সঙ সাজে
ফসলের মাঠে তার মেলে না সন্ধান
হালখাতায়, মিষ্টিমুখের উৎসবে
ফিরনি-পায়েশের থালায় অথবা
নদী তীরের বটতলায় হাটে-মাঠে
বড্ড বেমানান সে এখন।
গোয়ালে গরু-ধানের গোলা আর
‘বৈশাখী ঝড়ে একটা পড়ে’র
ছড়া ভুলে-ভুলে ধানের শীষের গন্ধ
রাজপথের বৈশাখ আমাদের ডাকে
ধীরে ধীরে শীত-গ্রীষ্মের সংবিধানে।
কবে কোন গ্রামের উনুনে মাটির হাঁড়ির ঘ্রাণ
একান্নবর্তী হাভাতের ঘর গেরস্থালী
অথবা মাটির ঘরের সোঁদা গন্ধ
অনায়াসে পিছনে ফেলে
বৈশাখ হেঁটে চলে ‘মেলায় যাইরে’ গানে
সভ্যতার চোখে চোখ রেখে রমনারই বটমূলে।