নিকোলাস্ত
ঘিরে ধরেছে এক অনন্য অন্ধকার।
হীরক দ্যুতির সুনিপুণ খাঁজে জেগে থাকা লুপ্ত আলোর বিচ্ছুরণ চেনে এই পরিশ্রান্ত, ক্লান্ত, শোকাচ্ছন্ন প্রকৃতির অঙ্গ।
তাই ঘটা করে ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই মেঘকে ভালোবেসে দেখো।
মেঘ তোমাকে পাহাড়ের কাছে নিয়ে যাবে,
পাহাড় দেখাবে ঝরনা।
ঝরনা দেখাবে সমুদ্রের পর এক ছায়া সুনিবিড় দ্বীপ।
সবুজায়িত নিমগ্ন চেতনায়, সন্ধ্যার আকাশে তখন তুমি এক মিটিমিটি তারা।
দেহ ছেড়ে প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলো জলের উপর।
সে এক মায়াবী জলপরী, হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় জলের অতলে—
ভয়ে ঘুম ভেঙে যায়! তখন আমি বিভীষিকাময় যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর ফ্রেমে।
লজ্জা হয়—আমি এ কেমন মানুষের পৃথিবীতে!
প্রকৃতির পৃথিবীটা কবে মানুষের হবে,
নাকি মানুষের পৃথিবীটা প্রকৃতির কাছে বিচারের ভার ছেড়ে দিতে হবে?
আমি নিয়মিত আয়না দেখি
পাজরের হাড়গুলো যখন ভাঙা আয়নায় ভেসে ওঠে,
হারমোনিয়াম রিডের মত তাকে সাজাই ‘সা রে গা মা’ ছঁকে।
সংকেত বুঝে ধীর থেকে উত্তাল সুর—
ও দেখা-অদেখার সীমানা-প্রাচীর খুঁজি।
আম কুড়াবার ধুম, সে এখন অজ্ঞাত সন্ধ্যা।
সে করুণ আবহ যান্ত্রিক মনের বাঁশিতে মিশে
ছড়িয়ে পড়ে হারমোনিয়ামের ধাওয়ায়।
এখন ভয় হয়—
আধুনিক ডঙ্কা তাড়িয়ে বেড়ায়।
আমি নিয়মিত আয়না দেখি।
আয়নায় ভেসে ওঠে হারমোনিয়াম জাদুঘর।
একদল উৎফুল্ল বালক-বালিকা
আমার পাশ দিয়েই চলতে চলতে বলতে থাকে—
আহা, সভ্যতা আমাদের পৃথিবীতে একদিন
সুরের স্রষ্টা ছিল হারমোনিয়াম।
নিয়মিত আয়না দেখি, সহস্র-কোটি চোখের আয়না।
কী বিস্ময় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি জাদুঘরের ল্যাম্পপোস্টে
জ্বলে থাকা থমাস এডিশনের
এক মায়াবী ঝলক।