ক্রীড়া ডেস্ক
নিয়ম পরিবর্তনে বড়ো ভূমিকা রেখেছেন চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স ভার্স্টাপেন ছবি: গেটি ইমেজেস
২০২৬ সালের নতুন ইঞ্জিনের নিয়মকানুন নিয়ে চালক ও দর্শকদের অসন্তোষের মুখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করল ফর্মুলা ওয়ান কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ মে অনুষ্ঠিতব্য মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্সের আগেই গাড়ির বেশ কিছু বিতর্কিত নিয়মে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফআইএ। চলতি মৌসুমের বিতর্কিত নতুন নিয়ম এবং ইঞ্জিন নিয়ে চালকদের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের সমাধানে একগুচ্ছ সংশোধনী আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফর্মুলা ওয়ান কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ মে মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্স শুরুর আগেই এই নিয়মগুলো কার্যকর হবে।
২০২৬ মৌসুমে ফর্মুলা ওয়ান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আনা হয় তাদের ভি৬ হাইব্রিড ইঞ্জিনে, যেখানে দহন শক্তি এবং বৈদ্যুতিক শক্তির অনুপাত রাখা হয় ৫০:৫০। কিন্তু এই পরিবর্তনের ফলে ব্যাটারি রিচার্জ বা এনার্জি হার্ভেস্টিংয়ের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে চালকদের ড্রাইভিং স্টাইলে আমূল পরিবর্তন আনতে হয়েছে, যা ল্যান্ডো নরিস এবং ম্যাক্স ভার্স্টাপেনের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছে চরম অপছন্দের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার এফ১ বস স্টেফানো ডোমেনিকালি এবং এফআইএ কর্মকর্তাদের সাথে দলগুলোর এক বৈঠকে এই পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হয়। চালকদের পক্ষ থেকে দেওয়া দীর্ঘদিনের অভিযোগ এবং প্রথম তিনটি রেসের ডেটা বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চালকদের ক্ষোভ ও নিরাপত্তা শঙ্কা
বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ল্যান্ডো নরিস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এই গাড়িগুলো মোটেও তেমন নয় যা চালিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন। অন্যদিকে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ম্যাক্স ভার্স্টাপেন এই নতুন গাড়িকে 'অ্যান্টি-রেসিং' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর তুলনা দিয়েছেন 'মারিও কার্ট'-এর সাথে। এমনকি এই নিয়মের কারণে তিনি ফর্মুলা ওয়ান ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা ছিল নিরাপত্তা। জাপানে অলিভার বিয়ারম্যান এবং ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্টোর মধ্যকার সংঘর্ষের উপক্রম হওয়া ঘটনাটি নতুন ইঞ্জিনের সীমাবদ্ধতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এনার্জি ম্যানেজমেন্টের কারণে অনেক সময় চালকদের বাধ্য হয়ে গতি কমাতে হচ্ছিল, যা পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির গাড়ির জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।
যে প্রধান পরিবর্তনগুলো আসছে:
কোয়ালিফাইং সেশন:
১. এনার্জি হার্ভেস্টিং বা রিচার্জিংয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৮ মেগাজুল (MJ) থেকে কমিয়ে ৭ মেগাজুল করা হয়েছে, যাতে চালকরা আরও বেশি সময় ফুল-স্পিডে গাড়ি চালাতে পারেন।
২. 'সুপার-ক্লিপ' পাওয়ার ২৫০ কিলোওয়াট থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ কিলোওয়াট করা হয়েছে, যা চালকদের ওপর এনার্জি ম্যানেজমেন্টের চাপ কমাবে।
মূল রেস:
১. রেসের সময় 'বুস্ট' ব্যবহারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৫০ কিলোওয়াটে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে হঠাৎ করে দুই গাড়ির গতির পার্থক্য খুব বেশি না হয় এবং দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
২. গাড়ির ত্বরণ জোনে (কর্নার থেকে বের হওয়ার সময়) ইঞ্জিনের ক্ষমতা ৩৫০ কিলোওয়াট রাখা হলেও ল্যাপের অন্যান্য অংশে তা ২৫০ কিলোওয়াটে সীমাবদ্ধ থাকবে।
রেস স্টার্ট:
১. শুরুতেই গতির অসামঞ্জস্যতা দূর করতে 'লো পাওয়ার স্টার্ট ডিটেকশন' সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। কোনো গাড়ি যদি শুরুতে পর্যাপ্ত গতি না পায়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিনের শক্তি বাড়িয়ে ভারসাম্য আনা হবে। পাশাপাশি পেছনে থাকা চালকদের সতর্ক করতে গাড়িতে বিশেষ ফ্ল্যাশিং লাইট জ্বলবে।
বৃষ্টি ও ভেজা কন্ডিশন:
১. ইন্টারমিডিয়েট টায়ার গরম করার তাপমাত্রা বাড়ানো হয়েছে যাতে টায়ার পিচ্ছিল রাস্তায় ভালো গ্রিপ পায়। এছাড়া বৃষ্টির সময় টর্ক বা চাকার ঘূর্ণন নিয়ন্ত্রণ করতে ইঞ্জিনের শক্তি কিছুটা কমানো হবে।
এফআইএ জানিয়েছে, যদিও এই পরিবর্তনগুলো বড় কোনো সংস্কার নয় বরং ছোটখাটো সমন্বয়, তবুও এগুলো রেসের মান এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মায়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্স থেকেই দর্শকরা এই নতুন পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে পাবেন।