আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তামিলনাড়ুর মূখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপাতির সঙ্গে মেট্রোরেল উদ্বোধনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ রুখতে গোটা শহরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়। দিল্লির রাজপথ যখন উত্তেজনায় মুখর, তখন নির্ধারিত সফরে তামিলনাড়ুতে অবস্থান করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাই পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ৪,৯০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত 'চেন্নাই মেট্রো-২'-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। ফিতা কাটার পর মোদি মেট্রোতে চড়ে পোরুর বাইপাস স্টেশন থেকে পুনামাল্লা বাইপাস স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াত করেন। চেন্নাই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আরও ৩,৭০০ কোটি রুপির একটি মেগা সড়ক প্রকল্পের শুভ সূচনা করবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ব্যানারে চলা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলটির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। গতকাল বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ অভিজিৎ দীপকে-সহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক করে। তবে সন্ধ্যা থেকে ধাপে ধাপে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। প্রথম দফায় প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎসহ শীর্ষ তিন নেতাকে আটকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের বিশেষ হস্তক্ষেপে আজ সকালে তাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়।
কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়। গতকাল দাদির মৃত্যুসংবাদে নিজ বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে অভিজিৎ মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "একজন নির্বাচন কমিশনারের পদ বাঁচাতে পুরো দিল্লিকে কেন অবরুদ্ধ করে রাখা হলো?"
যেহেতু গতকাল সিইসি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করেননি, তাই আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন থামবে না এবং আজই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।