আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সংঘাতপীড়িত রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সংঘাতের আগুন জ্বলে উঠেছে। এবার রাজ্যটির কামজং ও উখরুল জেলায় নাগা এবং কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অতর্কিত হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত শনিবারের (১০ অক্টোবর) এই ধারাবাহিক সহিংসতায় পুরো অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় সশস্ত্র বন্দুকধারীদের অতর্কিত গুলিতে মাইকেল এনগাম্মিনলেন হাওকিপ নামের এক যুবক এবং ডমখোনেই তোউথাং নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। সহিংসতাকারীরা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা চাসাদ এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
একই দিনে উখরুল জেলার ইয়াওলেন এলাকায় একটি চলন্ত চার চাকার গাড়িকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় আততায়ীরা। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গাড়িচালক সন্দীপ রাই। এ ছাড়া, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নিংচৌ গ্রামে পৃথক আরেকটি গোলাগুলির ঘটনায় এনগাচানসো নিংশেন ও লেইশিশান লেইশাদাং নামের দুই নাগা গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের সহিংসতা এড়াতে চাসাদ পুলিশ গেট জংশন ও এর আশেপাশের এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ বা কার্ফু জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। জনসমাগম ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি স্পর্শকাতর এই অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কাঙপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক শাটডাউনের ডাক দিয়েছে আদিবাসী ঐক্য কমিটি। আকস্মিক এই সংঘাতের জেরে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শান্তি ফেরাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদার করা হলেও নতুন করে ছড়িয়ে পড়া এই সহিংসতা পুরো মণিপুরকে ফের এক অনিশ্চিত সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।