ক্রীড়া ডেস্ক
আজকের গোলের পর কিলিয়ান এমবাপ্পের এবারের বিশ্বকাপে গোলের সংখ্যা ৮, যা লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছবি: রয়টার্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে আজ এক রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার-ফাইনাল ম্যাচে মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে শক্তিশালী ফ্রান্স। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে ফরাসিদের হয়ে জয়সূচক গোল দুটি করেন দলের দুই তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং উসমান দেম্বেলে। ম্যাচজুড়ে মরক্কো বল পজেশনে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবল ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে তারা শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই দুপক্ষ আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে লড়লেও কোনো দলই গোলমুখ খুলতে পারেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় ফরাসিরা। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দুর্দান্ত এক একক প্রচেষ্টায় মরক্কোর রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ফ্রান্সকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ধাক্কা মরক্কো সামলে ওঠার আগেই, ঠিক ৬৬তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের নিখুঁত শট মরক্কোর জালে জড়ালে ২-০ ব্যবধানের সহজ জয় নিশ্চিত হয় ফরাসিদের।
ম্যাচের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মরক্কো ৫২% সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ৪৯৮টি পাস খেললেও ফরোয়ার্ড লাইনের ব্যর্থতায় গোলমুখে মাত্র ১টি অন-টার্গেট শট নিতে পেরেছিল। অন্যদিকে, ফ্রান্স মাত্র ৪৮% বল পজেশন নিয়েও কাউন্টার-অ্যাটাক ভিত্তিক কৌশলে ২২টি শট নেয়, যার মধ্যে ৯টিই ছিল অন-টার্গেট।
পাসিংয়ের ক্ষেত্রে ফরাসিদের পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো, যেখানে তাদের পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৯২% (৪৭৬টি পাস)। বিপরীতে মরক্কোর পাস অ্যাকুরেসি ছিল ৮৮%। রক্ষণ সামলাতে গিয়ে মরক্কোকে ম্যাচজুড়ে ১২টি ফাউল করতে হয়েছে এবং তাদের ১টি হলুদ কার্ডও দেখতে হয়েছে। তবে ফ্রান্স অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ফুটবল খেলে ১০টি ফাউল করলেও কোনো কার্ড ছাড়াই ম্যাচ শেষ করে। উভয় দলই সমান ৫টি করে কর্নার আদায় করে নেয়।
এই দুর্দান্ত জয়ের পর শিরোপা জয়ের মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখল ফরাসিরা, আর বীরত্বপূর্ণ লড়াই শেষে কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হলো আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কোকে।