ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের ৩-২ গোলের নাটকীয় হারের পর শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। ম্যাচটিতে মিশরের বিপক্ষে যাওয়া বেশ কিছু রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলবিশ্ব যখন উত্তাল, ঠিক তখনই এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।
বুধবার (৮ জুলাই) তার নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মিশর যোগ্যতার কারণে নয়, বরং ‘স্বজনপ্রীতি’ বা পক্ষপাতিত্বের শিকার হয়ে হেরেছে।
এদিন মূলত নিউইয়র্ক সিটির বাস পরিষেবা দ্রুততর করার লক্ষ্যে ‘নেক্সট স্টপ: বেটার বাসেস, ফাস্টার সার্ভিস’ নামক একটি নতুন উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মামদানি। কিন্তু নিজের শহরের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে যাতায়াত সময় বাঁচানোর সুফল বোঝাতে গিয়ে তিনি মিশরের এই হৃদয়বিদারক পরাজয়ের প্রসঙ্গটি টেনে আনেন।
জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা যদি কাজে যাওয়ার জন্য বাসে যাতায়াত করেন, তবে কিছুটা সময় বাঁচবে। ছয় মাসের মধ্যে আপনারা বাসে ২৪ ঘণ্টা কম ব্যয় করবেন। আর এক বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে আপনারা যাতায়াতের সময় থেকে দুই দিনেরও বেশি সময় বাঁচাতে পারবেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই বেঁচে যাওয়া সময় মানে পরিবারের সঙ্গে সকালের নাস্তা করা। এর মানে আপনার বাচ্চার লিটল লিগ খেলায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তর্ক করার মতো সময় পাওয়া। এর মানে ঘুমানোর সময়ে বাড়ি ফিরতে পারা। আর সবকিছুর ওপরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে এই বিষয়ে একমত হওয়া যে—গতকাল মিশরকে অন্যায়ভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বোপরি, এর অর্থ হলো নিউইয়র্কবাসীদের কাছে তাদের মূল্যবান সময় ফিরিয়ে দেওয়া।’
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পরও এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের কিছু নির্দিষ্ট অনফিল্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকেরই দাবি, ম্যাচের কিছু নিষ্পত্তিমূলক মুহূর্তে রেফারি আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন।
সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় দ্বিতীয়ার্ধে। মিশরের মোস্তফা জিকো গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার ঠিক পরেই ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হস্তক্ষেপ করে। রেফারি ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত নেন যে, গোল হওয়ার ১০ সেকেন্ডেরও বেশি সময় আগে মিশরের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
যদিও এর কয়েক মিনিট পরেই মিশর আরেকটি বৈধ গোল করে ঠিকই ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময়ে ৩ গোলের লিড পেয়ে গেলে আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচে ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়ত।
ম্যাচের এই নাটকীয় মোড় এবং শেষ মুহূর্তের হারে মিশরীয় শিবিরের ক্ষোভ এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, দলের এক তারকা সরাসরি দাবি করেন—এই বিশ্বকাপ ‘ফিক্সড’ বা পূর্বনির্ধারিত ছিল।