ক্রীড়া ডেস্ক
হাইতি ফুটবল দল ছবি: গেটি ইমেজেস স্পোর্ট
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে 'গ্রুপ সি' এর লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারল না ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ বাকি থাকতেই প্রথম দল হিসেবে এবারের বিশ্বকাপ আসর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গেল তারা। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারের পর, আজ গ্রুপ পর্বের চতূর্থ ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের। আগামী ২৪শে জুন মরক্কোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচটি খেলবে হাইতি।
গ্রুপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচে আজ ফিলাডেলফিয়ার ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে নেমেছিল ব্রাজিল ও হাইতি। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে ব্যাকফুটে থাকা হাইতির জন্য আজ অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়া সমীকরণ ছিল টিকে থাকার জন্য। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সামনে তা আর সম্ভব হয়নি।
হাইতির ফুটবল ইতিহাস: উত্থান, পতন এবং ৫২ বছরের অপেক্ষা
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ছিটকে গেলেও ২০২৬ সালের এই আসরে কোয়ালিফাই করা হাইতির ফুটবলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের এই দেশটির ফুটবল ইতিহাস যেমন গৌরবময়, তেমনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার গল্পে ঘেরা।
১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হাইতিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। কিউবার পর দ্বিতীয় ক্যারিবিয়ান দেশ হিসেবে তারা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করে। হাইতির ফুটবল ইতিহাসের সোনালী সময় এসেছিল ১৯৭৩-৭৪ সালে। ১৯৭৩ সালে তারা কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে। এর পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে তারা। কিউবার পর দ্বিতীয় ক্যারিবিয়ান দেশ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পা রাখে 'লে গ্রেনাডিয়ার্স'।
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে হাইতি গ্রুপ পর্বে ইতালি, আর্জেন্টিনা ও পোল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে ৩টি ম্যাচেই তারা হেরেছিল সত্যি, তবে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচে হাইতির স্ট্রাইকার ইমানুয়েল 'মান্নো' সানন একটি ঐতিহাসিক গোল করেছিলেন। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ডিনো জফের টানা ১,১৪২ মিনিট গোল না খাওয়ার বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। সানন আজও হাইতির ফুটবল লোকগাথার মহানায়ক।
আঞ্চলিক ফুটবলে হাইতি সবসময়ই লড়াকু দল। ২০০৭ সালে তারা ক্যারিবিয়ান নেশনস কাপ জয় করে। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৫২ বছর। কনকাকাফ অঞ্চলের কঠিন বাছাইপর্ব পার হয়ে কোস্টা রিকা ও হন্ডুরাসের মতো পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা।
বিদায়ের ট্র্যাজেডি ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে অভিজ্ঞতা এবং শক্তির পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। তবে দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করে যে প্রতিকূল অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যেও দেশটির ফুটবলের ভিত কতটা মজবুত। এবারের বিদায় নিশ্চিত হলেও, ২৪শে জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি হাইতির জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার এবং একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরার শেষ সুযোগ। এই আসরের অভিজ্ঞতা আগামী দিনে ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দলটিকে আরও পরিপক্ক করে তুলবে, এটাই ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা।