Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

পাঠকের আগ্রহের জন্য লেখক তার সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পায়

মুনীর মুসান্না মুনীর মুসান্না
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন,২০২৬, ০৮:৩০ এ এম
আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন,২০২৬, ০২:২৬ এ এম
পাঠকের আগ্রহের জন্য লেখক তার সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পায়

ছবি: এ আই প্রণীত

মুনীর মুসান্না একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক, ব্যাংকার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক। তিনি ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৮১ সালে যশোরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগ থেকে এম.এস (প্রথম শ্রেণি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পেশাগত জীবনে ব্যাংকিং খাতের সাথে যুক্ত থাকলেও সাহিত্যের প্রতি তার অনুরাগ গভীর। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘ইচ্ছে মতো ইচ্ছে’ (২০০৬) এবং ‘আকাশ মাটির স্বপ্ন’ (২০০৮)।  সাহিত্যিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বেশ কিছু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০০ সালে ‘ফিলিপ্স-সাপ্তাহিক’ কর্তৃক সেরা ছোট গল্পের পুরস্কার এবং ২০২১ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘স্বপ্নসিঁড়ি সোসাইটি’ কর্তৃক সম্মাননা অর্জন উল্লেখযোগ্য।

একজন লেখক হিসেবে তিনি যেমন সৃজনশীল, তেমনি সংগঠক হিসেবে স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি লিখিতভাবে খড়ের গম্বুজকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এটি নিয়েছেন ধ্রুব নিউজের উপদেষ্টা সম্পাদক-ড. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ

প্রশ্ন: "খড়ের গম্বুজ" শব্দবন্ধটি শুনলে আপনার মনে প্রথম কীসের ছবি বা স্মৃতির উদ্রেক হয়?

মুনীর মুসান্না :  শব্দটি এমন একটি দৃশ্যকল্প যা এই মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধের আবহমান বাংলার জীবিকার সংস্কৃতি চিত্রের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় স্মরণ করে দেয়। একটি দেশ তার প্রবাহমান জীবনধারার যে ঐতিহ্য কালে কালে বয়ে আনে, তার মধ্যে আছে খাদ্যাভাস, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মাথা উঁচু করে জেতার পুরস্কারের একটি প্রতীকী ছবি।

প্রশ্ন: এই তীব্র যান্ত্রিক ও নাগরিক সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের শিকড় বা মাটির কাছাকাছি থাকাটা একজন লেখকের জন্য কতটা জরুরি?

মুনীর মুসান্না : প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতিকূলতার জন্য বিবর্তন আছে টিকে থাকার জন্য। বলতে গেলে সময়ের প্রয়োজনেই মানুষ এক যায়গা থেকে অন্যত্র যায়। উন্নত জীবনের জন্য যায়। টিকে থাকার জন্য যায়। বহু কারণে এই স্থান ত্যাগ করা মানুষের স্বভাবজাত কারণ। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি এখন সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সবশেষে রাজনৈতিক কারণেই বেশি মানুষ স্থান বা ক্ষেত্র বিশেষে দেশও ত্যাগ করছে। এই আধুনিক ব্যস্ত সময়ে যেসব অনুষঙ্গ সাহিত্য নির্মাণের রসদ হচ্ছে, তা রসকষহীন এবং যান্ত্রিক। এজন্য সেই ধানক্ষেত, মেঠোপথ, ফসলের আইলের ভিতর যে স্বপ্নের কথা মায়া মায়া গল্পের বীজ বুনে রাখে, তার তুলনা কোথায়?

প্রশ্ন: আপনার লেখায় গ্রামীণ জীবন, লোকজ উপাদান কীভাবে জায়গা করে নেয়? কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে কি?

মুনীর মুসান্না : যতদূর মনে পড়ে আমার প্রথম লেখা ছিল বৃষ্টি নিয়ে। টিনের চালে বৃষ্টি,  জানালার ধারে বসে ঝুমঝুম বৃষ্টি দেখা এবং অনুভব করা গ্রামীণ জীবন অনন্য। আমরা প্রতিদিন অনেক কিছু দেখতে দেখতে পরিবর্তিত হচ্ছি, কিন্তু লোকজ অভিজ্ঞতা মনে দাগ কাটে বেশি, কারণ শেকড়ের শক্তি বেশি।

প্রশ্ন: আমরা কি ক্রমশ আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যিক রূপগুলো হারিয়ে ফেলছি? সেই অভাব কীভাবে পূরণ করা যেতে পারে?

মুনীর মুসান্না : বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতির ফলে মানুষের  সামাজিক চাপ, অভ্যাস, সংস্কৃতি ও নানাবিধ বিনিময়

এমন সব মাধ্যমে হচ্ছে, যা আমাদের একেবারে অপরিচিত। এগুলোর সাথে খাপ খাইয়ে চলতে গিয়ে মূলত আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি জীবনের সূক্ষ্ম শিল্পের অনুষঙ্গ পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। লেখক বা শিল্পীরা এসব মাধ্যমের বাইরে নয়। তাই তাঁরাও এসবের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। যা তাদের লেখায় দারুণভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। এর জন্য রাষ্ট্রকে মূল দায়িত্ব নিতে হবে। কেননা, রাষ্ট্রের এর জন্য বড় আয়োজন পূর্বেই আছে। শুধু কার্যতালিকাভূক্ত করা। যেমন বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি এবং শিল্পকলা একাডেমি বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে লেখকদের ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে এর জন্য অবশ্যই দলনিরপেক্ষ কার্যক্রম হতে হবে।লেখকদের সম্মানিত করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

প্রশ্ন: এমন কোনো বই বা সাহিত্যকর্মের কথা বলবেন, যা পড়ার পর আপনার মনে হয়েছে—এটি সরাসরি মাটির গন্ধ থেকে তৈরি?

মুনীর মুসান্না : বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদের কথাই যদি বলি-

"কা আ তরুবর পঞ্চবি ডাল

চঞ্চল চি এ পইঠো কাল"।

অথবা মধ্যযুগের অন্যতম কবি ভরত চন্দ্র রায় গুণাকরের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ঈশ্বরী পাটনী চরিত্রের প্রত্যাশার কথা যদি বলি-

"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। " অথবা মহাকবি আলাওল এর পদ্মাবতী থেকে,

"ভুরুর ভঙ্গিমা হেরি ভুজঙ্গ সকল।

ভাবিয়া চিন্তিয়া মনে গেল রসাতল ॥

কাননে কুরঙ্গ জলে সফরী লুকিত।

খঞ্জন-গঞ্জন নেত্র অঞ্জন রঞ্জিত ॥

আধুনিক যুগ সৃষ্টির কারিগর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬০ নিজ জন্মভূমির যে মমতা প্রকাশ করেছেন-

"সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে |

সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে ;

সতত ( যেমতি লোক নিশার স্বপনে

শোনে মায়া-যন্ত্রধ্বনি) তব কলকলে

জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে!---

বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,

কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?

দুগ্ধ-স্রোতোরূপী তুমি জন্ম-ভূমি-স্তনে!"

অথবা- আধুনিক বাংলা কবি আল মাহমুদের-

"আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে

হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।

নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তুমার কাছে?

-হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।"

এছাড়া জসিম উদ্দিন এর নকসী কাঁথার মাঠ এর কথা বলা যেতে পারে।

বলা যায়, বাংলা সাহিত্যের আদি যুগ থেকে যেসব লেখা সাহিত্যকর্ম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তার বেশিরভাগ মাটির গন্ধ থেকে তৈরি।

প্রশ্ন: আপনার লেখার আদর্শ পরিবেশ কোনটি? লেখার সময় কোনো বিশেষ অভ্যাস বা অনুঘটক কি আপনাকে সাহায্য করে?

মুনীর মুসান্না: আমার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো পরিবেশ চিন্তা করিনা। যা দেখি, শুনি এবং অনুভব করি তার সাথে বসবাসের মধ্যে আমার জীবন যাত্রার দৈনন্দিনতা একাত্ম হয়ে গেছে। তবে যদি একটু দীর্ঘ অবসর পাই, কয়েকটি বড় কাজের ফ্রেম আঁকা আছে।  আমি মনে করি, শব্দেরা আমার কাছে নানাভাবে খেলতে আসে। আলাদা কোনো অনুঘটক নেই।

প্রশ্ন: আপনার কোনো জনপ্রিয় লেখার পেছনের এমন কোনো অজানা গল্প আছে, যা পাঠক বা দর্শকরা আগে কখনো শোনেনি?

মুনীর মুসান্না: ২০০২ সালে ফিলিপস- সাপ্তাহিক ২০০০ এর সৌজন্যে ছোটগল্পে পুরস্কার পাই। মূলত ছোট গল্প লেখার পিছনে আমার ভার্সিটি জীবনের দুজন প্রিয় বন্ধু যারা বর্তমানে সরকারি উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত, আমাকে গল্প লেখায় দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিলো। দৈনিক প্রথম আলো ও সমকালে এবং পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ২০০০-এ আমার ছবি এবং সংবাদ প্রকাশ দারুণ সেলিব্রিট করে বন্ধুরা, যা আমার কাছে পরবর্তীতে ছোটগল্প লেখায় মমতা বাড়ায়।

প্রশ্ন: লেখার শুরুর মুহূর্তের যে মানসিক লড়াই বা প্রথম লাইনটি লেখার দ্বিধা, তা আপনি কীভাবে পার করেন?

মুনীর মুসান্না: লেখা স্বতঃস্ফূর্ত। জোর করে লেখার ক্ষেত্রে দ্বিধা এমনটা হতে পারে। "একটি কবিতার জন্ম হবে, কবি মেতে ওঠে উৎসবে।" এখানে দ্বিধা জয়ী হতে পারে না। শব্দের ধ্বনি, প্রতিধ্বনি এসব দ্বিধা তেড়েফুঁড়ে ঠেলে দেয়।

প্রশ্ন: একটি লেখা শেষ হওয়ার পর আপনার অনুভূতি কেমন হয়? আপনি কি নিজের লেখা নিয়ে সহজে সন্তুষ্ট হতে পারেন?

মুনীর মুসান্না:  জীবনের প্রথম সাগর বেলায় সূর্যাস্ত দেখার অনুভবের মত। মনে হয় মনের মত এবং শ্রেষ্ঠ লেখা না লেখার আক্ষেপ নিয়ে থাকতে হবে বহুকাল। এই মনের মত লেখার তাড়না নিয়ে বয়ে যাচ্ছে জীবন। না, পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারি না।

প্রশ্ন: যদি আপনাকে আপনার নিজের যেকোনো একটি চরিত্র বা কবিতার লাইনের সাথে তুলনা করতে বলা হয়, আপনি কোনটি বেছে নেবেন এবং কেন?

মুনীর মুসান্না: যদিও ঢাকা একুশে বইমেলা উপলক্ষে আমার তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত  হয়েছে ( ইচ্ছে মতো ইচ্ছে (২০০৬), আকাশ মাটির স্বপ্ন (২০০৮), মেঘ তাই ভয় পেয়ে বৃষ্টিতে ঝরে (২০২৫), তবুও ছোটগল্প আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখার মাধ্যম মনে করি। আমার পুরস্কার পাওয়া " আঁধারে আলো " গল্পের মফিজ চরিত্র, টুলু গল্পের টুলু, শহরালির খোয়াবনামা গল্পের শহরালি, শ্রাবণে বর্ষণে গল্পের জলিল মিয়া আমার প্রিয় চরিত্র।

প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রিলস/শর্ট ভিডিওর যুগে মানুষের পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে কি? সাহিত্যকে এর সাথে কীভাবে মানিয়ে নিতে হবে?

মুনীর মুসান্না: প্রিন্ট মোড়কে বইয়ের স্বাদ অন্য সব কিছু থেকে আলাদা। যান্ত্রিকভাবে মানিয়ে নেয়া জীবনের গল্পগুলো রিলস/ শর্ট ভিডিও দখল করছে ঠিক কিন্তু, মাটির কাছাকাছি জ্ঞানের স্পর্শ পেতে হলে কাগজের বই অনন্য। পেশার সাথে নেশার সমন্বয় করা কঠিন হয়ে উঠলেও সাহিত্য কেন্দ্রিক গ্রুপগুলো সক্রিয় থাকলে পারস্পরিক ভাবনার বিনিময় ও পাঠচক্রের- এসব আয়োজনে শামিল হয়ে এবং নিজেও ব্যক্তিগত লাইব্রেরি গড়ে তুলে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে এ অভাব কিছুটা দূর হবে।

প্রশ্ন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর এই যুগে মানুষের আবেগের জায়গা থেকে মৌলিক সাহিত্য সৃষ্টির ভবিষ্যৎ আপনি কেমন দেখছেন?

মুনীর মুসান্না: হয়তো একসময় কৃত্রিমতা ও মাটির কাছাকাছি থেকে আসা জ্ঞানের তফাত হবে অল্পই। তবু শেকড়ের মজবুত গাঁথুনির জন্য শেষমেষ মৌলিক সাহিত্য খুঁজে খুঁজে নেবে। মন ও আবেগের ভাষা চিরদিন মৌলিক সাহিত্য নির্ভর।

প্রশ্ন: সমকালীন তরুণ লেখকদের লেখার মধ্যে কোন শক্তি বা কোন সীমাবদ্ধতা আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে?

মুনীর মুসান্না: আমি বলি দুর্দিনের সময় সাহিত্য রাজকীয় মুকুট পরে। বিগত বড় একটি সময় ধরে দেশে ফ্যাসিস্ট শাসন থাকায় তরুণদের কলমে অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বারবার। এই বাঁধা বিপত্তির মধ্যে আমাদের সাহিত্যেও বড় এক বিপ্লব হয়ে গেছে নীরবে। বর্তমান সময়ে হিংসা করার মত ভালো লিখছেন অনেকেই। আমার মনে হয় সমকালীন তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত লেখনি ভালো সাহিত্য সৃষ্টির পথে বড় অন্তরায়।

প্রশ্ন: একটি ম্যাগাজিন বা পত্রিকার ছোট পরিসরে সাহিত্যচর্চা এবং একটি আস্ত বই লেখার মধ্যে একজন লেখকের মানসিকতায় কী তফাত থাকে?

মুনীর মুসান্না: সাহিত্য ম্যাগাজিন বা পত্রিকায় চোখ থাকে অনেক। দিগন্ত জুড়ে তার প্রভাব বিস্তার হয়ে পড়ে। কিন্তু আস্ত বইয়ে লেখক সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন: বর্তমানের সাহিত্য সমালোচনা কি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে? একজন লেখকের মূল্যায়নে পাঠকের ভূমিকা এখন কতখানি?

মুনীর মুসান্না: অবশ্যই। সাহিত্য সমালোচনার ক্ষেত্র খুব সীমিত। এখানে প্রচুর কাজ করতে হবে। লেখক নয়, আমার মতে পাঠকের আগ্রহের জন্য লেখক তার সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পায়।

আরও পড়ুন-

আততায়ী ছায়া ছায়া মানুষ আততায়ী ছায়া ছায়া মানুষ

প্রশ্ন: জীবনের শুরুর দিকের আপনার যে সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, সময়ের সাথে সাথে তাতে কী ধরণের বড় রূপান্তর বা পরিবর্তন এসেছে?

মুনীর মুসান্না: অনেক অনেক পরিবর্তন। মূলত যখন মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে রাশিয়ান সাহিত্য পড়া শুরু করেছি, এরপর আমার নিজের অবস্থানে আর থাকতে পারিনি। লেখার মাধ্যমেই নয়, বলা যায় নতুন বিশ্বের সাথে অপরিচিত সাহিত্যের সাথে যত পরিচিত হয়েছি, লেখার অনেক সিদ্ধান্ত বদলে নিয়েছি।

প্রশ্ন: একজন লেখকের কি সমাজ বা রাজনীতির প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা থাকা উচিত, নাকি সাহিত্য কেবলই খাঁটি শিল্পের জন্য হওয়া উচিত?

মুনীর মুসান্না: খাঁটি শিল্প বলতে কি বুঝান? একজন শিল্পী এই সমাজের বাইরের কেউ নন। সমাজও রাজনীতির প্রতি তার দায় রয়েছে। তবে দলকানা দায় হলে তিনি খাঁটি শিল্পী হয়ে উঠতে পারবেন না। সব শিল্পকর্ম মানব সম্পর্ক নিরপেক্ষ করে দেখে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেই খাঁটি শিল্পী সে হতে পারে।

প্রশ্ন: এমন কোনো লেখার স্বপ্ন কি আপনার আছে, যা আপনি এখনো লিখে উঠতে পারেননি কিন্তু একদিন লিখতে চান?

মুনীর মুসান্না: আমি আগেই বলেছি, আমার সেরা লেখার আক্ষেপ বয়ে আমি লিখে যেতে চাই। মাস্টার ঈশা খাঁর মত অনেক সাধনার পরেই তৈরি হয় জগৎ বিখ্যাত শিল্পকর্ম। পেশার সাথে যুদ্ধ করে নিয়মিত সেই স্বপ্ন দেখছি। ছোট গল্পের ক্ষেত্রে নানাবিধ পরীক্ষার মধ্যে আছি। হয়তো একদিন আমিও...

প্রশ্ন: আপনার জীবনের এমন কোনো ঘটনা বা ট্র্যাজেডি আছে, যা আপনার লেখার পুরো মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল?

মুনীর মুসান্না: লেখালেখির ক্ষেত্রে এমন একটি অনুপ্রেরণা আছে। আমি এ ক্ষেত্রে কবি আনিসুল ইসলাম বিপ্লবের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: "খড়ের গম্বুজ"এর পাঠক এবং নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

মুনীর মুসান্না: নতুন একটা সম্ভবনা। অসংখ্য গুণী কবি ও লেখকদের সম্মিলন ঘটিয়ে ধ্রুব নিউজ অনেক বড় একটি কাজ  ইতোমধ্যে করেছে। আরো নতুন আয়োজন করে লেখকদের শাণিত করে তুলবে এই প্রত্যাশা।

স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এতো মানুষের কাছাকাছি আসতে পারা খড়ের গম্বুজের সকল পাঠক ও সংশ্লিষ্টদের জন্য শুভকামনা রইলো।

পড়ুন-

কেন লিখি-মুনীর মুসান্না কেন লিখি-মুনীর মুসান্না

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)