ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: রয়টার্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর 'ডি' গ্রুপের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল প্যারাগুয়ে। পুরো ম্যাচ জুড়ে বল দখল এবং আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে তুরস্ক। উল্টো ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে বসে তারা এবং প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে প্যারাগুয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তুরস্ক। শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি।
ম্যাচের বয়স যখন মাত্র ২ মিনিট, তখনই তুরস্কের রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে নেন মাতিয়াস গালার্জা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তে, ৪৫+৩ মিনিটে প্যারাগুয়ের তারকা ফুটবলার মিগুয়েল আলমিরন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যায় কতটা একপেশে আক্রমণ করেছে তুরস্ক। পুরো ম্যাচে তারা প্যারাগুয়ের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে রেকর্ড ৩৩টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টি ছিল অন-টার্গেট। পক্ষান্তরে, প্যারাগুয়ে শট নিতে পেরেছে মাত্র ৬টি, যার ২টি ছিল অন-টার্গেট। বল দখলের লড়াইয়েও ৭৮% সময় বল ছিল তুরস্কের পায়ে এবং তারা রেকর্ড ৬৩৮টি পাস দেয় (পাস নির্ভুলতার হার ৯০%)। অন্যদিকে প্যারাগুয়ে মাত্র ২২% বল দখলে রেখে ১৫৪টি পাস দিতে সক্ষম হয়। কর্নারের দিক থেকেও ১২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের বীরত্বে কোনো আক্রমণই গোলে রূপান্তর করতে পারেনি তুর্কিরা।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় তুরস্কের
টানা দুই ম্যাচ হেরে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে (চতুর্থ স্থানে) রয়েছে তুরস্ক। এই হারের ফলে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ছিটকে গেলো তুরস্ক। তাদের আগে আজকের দিনেই ব্রাজিলের সাথে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে হাইতি।
অন্যদিকে, এই জয়ের ফলে 'ডি' গ্রুপে ২ ম্যাচ খেলে ১টি জয় ও ১টি হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এলো প্যারাগুয়ে। সমান ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) এবং ৩ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়া।