নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: প্রতীকী
ঢাকায় রিকসা গ্যারেজ, যশোরে জমিসহ বাড়ি ও নগদ ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যশোরে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা দেবহাটার কামিনীবসু রামনাথপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্যার ছেলে ও নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। অতিরিক্তি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম অভিযোগে তদন্ত করে যশোর সদরের এসি ল্যান্ডকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের শ্বশুর যশোর শহরের বকচরের এল মার্কেট সংলগ্ন এলাকার নূর মোহাম্মদ গাজী ও তার শাশুড়ি তাসলিমা খাতুন এবং স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী মৌসুমী।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৮ সালে চেয়ারম্যান আলমগীল হোসেন পারিবারিক ভাবে মৌসুমীকে বিয়ে করেন। সংসার জীবনে বনিবনা না হওয়ায় চেয়ারম্যান তার স্ত্রী মৌসুমীকে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি তালাক দেন। মৌসুমী ভুল স্বীকার করায় আলমগীর তাকে জুলাই মাসে আবারও বিয়ে করেন। কিছুদিন যেতে না যেতে অপর আসামিদের কুপ্ররোচনায় আসামি মৌসুমী পূনরায় অশান্তি শুরু করেন। এরমধ্যে সুচতুর মৌসুমী তার স্বামীর কাছ থেকে পিতার জন্য জমি কেনার কথা বলে ১৪ লাখ টাকা ধার হিসেবে গ্রহণ করেন। মৌসুমী সংসারে আবারও অশান্তি শুর করলে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আলমগীর তার স্ত্রীকে ফের তালাক দেন।
এরপর মৌসুমী ও তার পরিবারের লোকজন পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে ১০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়ে আলমগীরকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। আলমগীর তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ওই বছরের ২৪ আগস্ট মৌসুমীকে আবারও বিয়ে করেন। ভালোই যাচ্চিল তাদের সংসার জীবন। হটাৎ আলমগীর বুঝতে পারেন শ্বশুর বাড়ি থেকে দেয়া ১০ লাখ টাকার চেকটি তার স্ত্রী মৌসুমী কৌশলে নিয়ে নিয়েছেন।
এরপর শ্বশুর-শাশুড়ির কু-প্ররোচনায় মৌসুমী তার স্বামী আলমগীর হোসেনের কাছে যৌতুক হিসেবে ঢাকায় রিকসা গ্যারেজ, যশোরে বাড়ি ও নগদ ৫০ লাখ টাকা দাবি করে অশান্তি শুরু করেন। ১০ লাখ টাকার চেকটি যৌতুক হিসেবে নিয়ে মৌসুমী পিতার বাড়ি যশোর শহরের বকচরে চলে আসেন। গত ১৪ এপ্রিল আলমগীর ও তার স্বজনরা বকচরে এসে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিলে মৌসুমী যৌতুক ছাড়া সংসার করবেনা বলে জানিয়ে দেন। বিষয়টি মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন ।
ধ্রুব/এস.আই