ক্রীড়া ডেস্ক
প্রতীকি ছবি ছবি:
অ্যাথলেটিকসে ডোপিং বা নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণের দায়ে ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ভারত। সোমবার অ্যাথলেটিকস ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (এআইইউ) জানিয়েছে, এই তালিকায় এখন থেকে রাশিয়ার মতো দেশগুলোর পাশে থাকবে ভারতের নামও।
ভারতের অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনকে (এএফআই) ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে অবনমন করে ক্যাটাগরি ‘এ’-তে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া, বেলারুশ, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে একই সারিতে জায়গা হলো ভারতের। এই পরিবর্তনের অর্থ হলো, ভারতীয় অ্যাথলেটদের এখন থেকে আরও অনেক বেশি কঠোর ডোপবিরোধী পরীক্ষা ও কড়া নিয়মকানুনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
ডোপিং লঙ্ঘনে বিশ্বের ‘শীর্ষ দুইয়ে’ ভারত
এআইইউ-এর তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ডোপিং আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই দেশটি শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে ছিল। এআইইউ চেয়ারম্যান ডেভিড হাউম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন: "ভারতে ডোপিং পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যবশত, দেশটির অভ্যন্তরীণ ডোপবিরোধী কর্মসূচির মান এই ঝুঁকির তুলনায় মোটেও সন্তোষজনক নয়। এএফআই সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে দৃশ্যমান পরিবর্তন খুব একটা দেখা যায়নি।"
এখন থেকে ভারতের অ্যাথলেটিকসে স্বচ্ছতা ফেরাতে এএফআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবে স্বাধীন সংস্থা এআইইউ।
ভারত বর্তমানে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তাদের ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই ডোপিংয়ের কালো ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে। সম্প্রতি এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী তিরন্দাজ প্রথমেশ জাওকারকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিজের অবস্থানের সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই শাস্তি পেয়েছেন তিনি, যার ফলে আগামী জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে তিনি অংশ নিতে পারবেন না।
ওয়াডা প্রধানের মন্তব্য
গত সপ্তাহে বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) প্রধান উইটোল্ড বাঙ্কা নয়াদিল্লি সফরে গিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, ভারত বর্তমানে পারফরম্যান্সবর্ধক ওষুধের অন্যতম বড় উৎপাদক। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ডোপিং তালিকায় শীর্ষে থাকলেও এটি ভারতের বড় কোনো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসর আয়োজনের পথে আইনত বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।