❒ যবিপ্রবি’র কেমিকৌশল বিভাগের গবেষনা
এম জামান
ছবি: সংগৃহীত
দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে ‘ন্যানো ইউরিয়া’ সার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্ভাবনের ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমে আসবে প্রায় ৮২ শতাংশ—এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে যশোরে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে যশোর জেলার ৫টি স্থানে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে ‘ন্যানো ইউরিয়া’ প্রয়োগ করা হয়েছে। কৃষকদের দাবি, প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় এই তরল ন্যানো ইউরিয়া অনেক বেশি কার্যকর, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এটি সরাসরি গাছের পাতায় স্প্রে করে প্রয়োগ করা হয়, ফলে গাছ দ্রুত পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং সারের অপচয় কমে যায়।
কৃষকদের তথ্যমতে, যেখানে এক বিঘা জমিতে প্রচলিত ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে খরচ হয় প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, সেখানে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহার করতে খরচ হচ্ছে মাত্র ২৩০ টাকা। এতে একদিকে যেমন কৃষকের খরচ কমছে, অন্যদিকে ফলনও সন্তোষজনক হচ্ছে।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের কৃষক হাকিম মোল্লা জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে ন্যানো ইউরিয়া এবং অন্য এক বিঘায় গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করেছেন। দুই ক্ষেত্রেই প্রায় একই ফলন পাওয়া গেলেও ন্যানো ইউরিয়ায় খরচ অনেক কম হয়েছে। একই গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন, “ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে ধান গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। আশা করছি ফলনও ভালো হবে।”
এদিকে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রোনের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের পরীক্ষাও চালানো হয়েছে। ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং নির্ভুলভাবে জমিতে সার প্রয়োগ সম্ভব হওয়ায় কৃষকের সময় ও শ্রম দুটোই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যবিপ্রবি’র গবেষণা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৮ বছরের গবেষণায় এই ‘ন্যানো ইউরিয়া’ উদ্ভাবন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে এবং ফলাফল ইতিবাচক পাওয়া গেছে।
ড. জাভেদ হোসেন খান বলেন, “ন্যানো ইউরিয়া উৎপাদনে কোনো কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না। দেশীয় উপকরণ দিয়েই এটি তৈরি সম্ভব। উৎপাদন প্রক্রিয়াও সহজ এবং খরচ খুবই কম। মাত্র ২৩০ টাকায় এক বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় সার উৎপাদন করা সম্ভব, যেখানে প্রচলিত ইউরিয়ার জন্য খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা।”
তিনি আরও জানান, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই প্রযুক্তি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটবে এবং কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই ন্যানো প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলে দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, কমবে আমদানি নির্ভরতা এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
ধ্রুব/এস.আই