মতিউর রহমান
❒ মতিউর রহমান। ছবি: ধ্রুব নিউজ গ্রাফিক্স
৫ টা ছাত্রসংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের ২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ছাত্রদের মনোভাব ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়ে গেছে। ছাত্রদের মনোভাবের কোনো ছন্দপতন হয়নি। ৫ ছাত্র সংসদের ১৬ টি শীর্ষ পদের মধ্যে ৩ টি ছাড়া বাকি ১৩ টি ছাত্রশিবির জয়লাভ করেছে। দুটি পেয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই ক্যাম্পাসের পোস্টারবয় খ্যাত দুই স্বতন্ত্র ছাত্রনেতা। আর একটি মাত্র ছাত্রদল।
ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে শিবিরের বিজয়গাথার লাগাম টেনে ধরে তাদেরকে পরাজিত করতে চাইলে অন্যদের করতে হবে কী?
সবাই মিলে সভা সমাবেশ ডেকে এক মঞ্চ থেকে শিবিরকে ৭১ বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, সন্ত্রাসী, গুপ্ত, বট বাহিনী, ধর্ম ব্যবসায়ী, হিজাবী বলে সম্মিলিত আক্রমণ শুরু করলেই কি হবে?
ইতিমধ্যে এসব অস্ত্র ভোতা হয়ে গেছে। ২৪ শের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমেই আসলে এসব অস্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজন ভাবে জুলাই পরবর্তী সময়ে শিবিরকে মোকাবেলায় প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত নির্লজ্জতার সাথে একই পথ অবলম্বন করে পরপর পাঁচটি ছাত্র সংসদে ধরাশয়ী হলো। এখন আশাকরি সবাই এটা থেকে শিক্ষা নেবে।
আসল কথা হলো-ছাত্রশিবিরকে পরাজিত করতে চাইলে ছাত্র শিবিরের চেয়েও বেশি শিক্ষার্থী বান্ধব হতে হবে। ছাত্রশিবির চ্যারিটি করে বলে তাদের পেছনে না লেগে বরং নিজেরা সবাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে চ্যারিটি করতে হবে। ছাত্রশিবিরের সাথে মন্দ পথে না লেগে ভালোর প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। তবেই ছাত্রশিবিরকে কেবল আদর্শ দিয়ে পরাজিত করা সম্ভব!
ছাত্র শিবিরের প্রতিপক্ষ ও প্রতিযোগীরা ছাত্রশিবির কে মোকাবেলায় ভুল পলিসি অবলম্বন করে ছাত্র শিবিরের কাছে নিরঙ্কুশ পরাজিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদী দোসর মিডিয়াকে ছাত্র শিবিরের পিছনে লেলিয়ে দিয়ে আর কোন লাভ নাই।বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্রশিবি সবার চেয়ে এগিয়ে আছে।
সুতরাং কথা একটাই- সত্য সুন্দরের প্রতিযোগিতা করে কেবল ছাত্রশিবিরকে পরাজিত করা সম্ভব! তা নইলে 'না'।
লেখক: শিক্ষক, বাঘারপাড়ার বাসিন্দা