ক্রীড়া ডেস্ক
কানাডিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে আলাদা নজর থাকবে মার্সিডিজের কিমি আন্তোনেল্লির উপর ছবি: রয়টার্স
তিন সপ্তাহের বিরতি শেষে আবারও ট্র্যাকে ফিরছে ফর্মুলা ওয়ান। আর এবারের আসরটি বসছে কানাডায়। তবে রেসিং ট্র্যাকে ফেরার আগে সব আলো এখন কেড়ে নিয়েছেন মার্সিডিজের ১৯ বছর বয়সী ইতালীয় তরুণ সেনসেশন কিমি আন্তোনেল্লি। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, চ্যাম্পিয়নশিপের গতিপথ এখন পুরোপুরি এই তরুণের নিয়ন্ত্রণে।
মিয়ামি গ্র্যান্ড প্রিক্সে টানা তৃতীয়বারের মতো পোল পজিশন থেকে রেস জিতে ইতিহাস গড়েছেন আন্তোনেল্লি। এই দুর্দান্ত ফর্মের ওপর ভর করে মাত্র চারটি রেস শেষেই ড্রাইভার্স চ্যাম্পিয়নশিপে নিজের সতীর্থ জর্জ রাসেলকে ২০ পয়েন্টে পেছনে ফেলে শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি।
অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ল্যান্ডো নরিস মিয়ামিতে দারুণ লড়াই করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। ম্যাকলারেনের বড় ধরনের গাড়ি আপগ্রেডের পর তার সতীর্থ অস্কার পিয়াস্ট্রিও পডিয়ামের শেষ স্থানটির জন্য লড়েছেন। মিয়ামির সেই জাঁকজমকপূর্ণ ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর এখন দেখার বিষয়—আন্তোনেল্লি কি তার এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারেন, নাকি অন্য কোনো ড্রাইভার নতুন চমক নিয়ে হাজির হন। চলতি মৌসুমের পঞ্চম এই রেসের কোনো মুহূর্ত যেন মিস না হয়, সে জন্য জেনে নিন বিস্তারিত সময়সূচী।
কানাডিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী (বাংলাদেশ সময় অনুসারে)
এবারের রবিবারের মূল রেসটির সময় কিছুটা পেছানো হয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিখ্যাত 'ইন্ডিয়ানাপোলিস ৫০০' রেসের সাথে যেন সময় মিলে না যায়, সেজন্য স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়) এই রেস শুরু হবে। নিচে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী (বিএসটি) সম্পূর্ণ সূচী দেওয়া হলো:
শনিবার, ২৩ মে:
স্প্রিন্ট রেস: রাত ১০:০০ টা – রাত ১১:০০ টা
রবিবার, ২৪ মে:
কোয়ালিফাইং: রাত ২:০০ টা – রাত ৩:০০ টা (শনিবার দিবাগত রাত)
মূল রেস (কানাডিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্স): রাত ২:০০ টা (রবিবার দিবাগত রাত)
কীভাবে দেখবেন এই রেস?
যুক্তরাজ্যের দর্শকদের জন্য 'স্কাই স্পোর্টস এফওয়ান' এবং 'স্কাই স্পোর্টস মেইন ইভেন্ট' চ্যানেলগুলোতে প্রতিটি সেশন সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এছাড়া যারা সাবস্ক্রাইবার নন, তারা 'চ্যানেল ফোর'-এ এই রেসের হাইলাইটস দেখতে পাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা এবার একদম নতুন অভিজ্ঞতা পাবেন, কারণ অ্যাপল টিভিতে যুক্ত হওয়া নতুন ফর্মুলা ওয়ান চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি সেশন সরাসরি উপভোগ করা যাবে।

সার্কিট গিল ভিলনেভ: ইতিহাস ও রোমাঞ্চের ট্র্যাক
কানাডার এই বিখ্যাত সার্কিটটির নামকরণ করা হয়েছে কিংবদন্তি কানাডিয়ান ড্রাইভার গিল ভিলনেভের নামানুসারে, যিনি ১৯৮২ সালে বেলজিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সের কোয়ালিফাইংয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এর চার বছর আগে এই ট্র্যাকেই অনুষ্ঠিত প্রথম রেসটিতে জয় পেয়েছিলেন এই ঘরের ছেলে।
সেন্ট লরেন্স নদীর বুকে জেগে থাকা কৃত্রিম দ্বীপ 'নটর ডেম আইল্যান্ড'-এ এই সার্কিটটি অবস্থিত। দ্বীপটি মূলত ১৯৬৭ সালের 'এক্সপো ৬৭ ওয়ার্ল্ডস ফেয়ার'-এর জন্য তৈরি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের মন্ট্রিয়াল অলিম্পিকেও এটি ব্যবহৃত হয়।
দুটি দীর্ঘ সোজা রাস্তা (স্ট্রেট), অত্যন্ত সংকীর্ণ হেয়ারপিন বাঁক এবং রান-অফ এরিয়ার স্বল্পতার কারণে এটি ড্রাইভারদের অন্যতম প্রিয় ট্র্যাক। এই সার্কিটের ১৪ নম্বর টার্নের এক্সিটে রয়েছে কুখ্যাত "ওয়াল অব চ্যাম্পিয়ন্স" বা চ্যাম্পিয়নদের দেয়াল। ১৯৯৯ সালের এক রেস উইকএন্ডে তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন—ডেমন হিল, মাইকেল শুমাখার এবং জ্যাক ভিলনেভ এই একই দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে রেস থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেয়ালটির এই নামকরণ করা হয়।

রেসের গতি আর উত্তেজনার পাশাপাশি এই ট্র্যাকের আরও একটি বড় আকর্ষণ হলো এখানকার বন্যপ্রাণী। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা 'গ্রাউন্ডহগ' (এক ধরণের বড় কাঠবিড়ালি জাতীয় প্রাণী) প্রায়শই ট্র্যাকের আশেপাশে মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়। কখনো কখনো রেসিং কারগুলোর গতির লড়াইয়ের একদম প্রথম সারির দর্শক বনে যায় এই আদুরে প্রাণীরাও!