ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ড ন্যাশনাল ফুটবল টিম ছবি: গেটি ইমেজ স্পোর্ট
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। বেশ কিছুদিন ধরে ফুটবল পাড়ায় যে গুঞ্জনগুলো ভেসে বেড়াচ্ছিল, দল ঘোষণার পর তার অনেকটাই সত্যি প্রমাণিত হলো। থমাস টুখেলের কোচিং দর্শনের প্রতিফলন ঘটিয়ে ঘোষিত এই দলে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত এবং বড় তারকা, যা ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইংল্যান্ডের টিম বস থমাস টুখেল বরাবরই তার নিজস্ব ফুটবল দর্শনের জন্য পরিচিত। তার পরিচালনার একটি স্পষ্ট ধারা রয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়ের অতীত খ্যাতি বা প্রচারণার চেয়ে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা, বর্তমান ফর্ম এবং কৌশলগত সামঞ্জস্য বেশি গুরুত্ব পায়। টুখেল প্রথমে তার খেলার মূল কাঠামো তৈরি করেন এবং সেই কাঠামো অনুযায়ী উপযুক্ত খেলোয়াড় নির্বাচন করেন। তার এই কঠোর নীতির কারণেই দলের প্রয়োজনে যেকোনো বড় নামকে বাদ দিতে তিনি দ্বিধাবোধ করেন না।
এই দলের সবচেয়ে বড় চমক ফিল ফোডেনের অনুপস্থিতি। চলতি মৌসুমে নিজের চেনা রূপের ধারেকাছেও ছিলেন না এই তারকা। ধারাবাহিকতার অভাব, মাঠে কার্যকারিতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যর্থতার কারণে পুরো মৌসুম জুড়েই তিনি অফ-ফর্মে ছিলেন। টুখেলের কৌশলে শুধুমাত্র অতীতের সুনামের ওপর ভর করে জায়গা পাওয়া অসম্ভব, আর ফোডেনের বাদ পড়া সেটাই প্রমাণ করে।
দল ঘোষণার আগে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড এবং কোল পালমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তারা মূল তালিকায় নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ট্রেন্ট ইনজুরি থেকে ফেরার পর কিছু ম্যাচে তার দূরপাল্লার পাসিং ও আক্রমণ গড়ে তোলার দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। অন্যদিকে, কোল পালমার জাতীয় দলের জার্সিতে এখনও পুরোপুরি অনবদ্য হতে না পারলেও, যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে তাকে দলে রাখা হয়েছে। তবে হ্যারি ম্যাগুইয়ারের মতো অভিজ্ঞ রক্ষণভাগের সেনানী কিংবা মর্গান গিবস-হোয়াইটের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না।
ফুটবল ইতিহাসে অনেক সময়ই দেখা গেছে, বড় বড় নাম দিয়ে দল ভারী করা হলেও মাঠে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে না। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নামের চেয়ে একটি সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ দল অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইংল্যান্ডের এবারের দলটি লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, টুখেল কোনো জাঁকজমকপূর্ণ দল নয়, বরং সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি কার্যক্ষম দল গঠন করেছেন। এখানে প্রতিটি খেলোয়াড়ের ভূমিকা একদম সুনির্দিষ্ট। বর্তমান ফর্ম, শারীরিক সক্ষমতা এবং দলের ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা—সবকিছু বিবেচনা করেই এই ২৬ সদস্যের দল সাজানো হয়েছে।
ইংল্যান্ডের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলকিপার: জর্ডান পিকফোর্ড, অ্যারন র্যামসডেল, জেমস ট্রাফোর্ড।
ডিফেন্স: রিস জেমস, ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড, জন স্টোন্স, মার্ক গেহি, এজরি কোনসা, লেভি কলউইল, নিকো ও'রাইলি, লুইস হল।
মিডফিল্ড: ডেক্লান রাইস, জুড বেলিংহাম, কনর গ্যালাগার, কোবি মেইনু, মরগান রজার্স, এবারেশি এজে।
এ্যাটাক: হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা, মার্কাস র্যাশফোর্ড, অ্যান্থনি গর্ডন, অলি ওয়াটকিন্স, ইভান টোনি, কোল পালমার।