ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল "ট্রিওন্ডা" এবং বলের ভেতরে থাকা সেন্সর ছবি: ফিফা
বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা মাঠের লড়াই শুরুর আগেই জমজমাট। তবে এবারের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক দারুণ চমক। মাঠে বল গড়ানোর আগে এখন স্বয়ং ম্যাচ খেলার বলটিকেও প্লাগ-ইন করে চার্জ দিতে হবে!
ডিজিটাল এই যুগে ফুটবলকে আরও নিখুঁত এবং প্রযুক্তিবান্ধব করতে ফিফা নিয়ে এসেছে এই অভিনব ইনোভেশন।
বলের ভেতরেই রয়েছে হাই-টেক সেন্সর
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রতিটি বলে যুক্ত করা হয়েছে একটি বিশেষ সেন্সর। বলটিতে যখনই কোনো প্লেয়ার স্পর্শ করবেন, তখনই সেন্সরটি তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ট্র্যাক করতে শুরু করবে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে এই সেন্সরটি বলের ভেতরে কিছু তারের সাহায্যে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। তবে প্রযুক্তির আরও উন্নতি ঘটিয়ে এবার সেন্সরটিকে বলের ভেতরের একটি প্যানেলের সাথে সরাসরি যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
ডাটা ট্র্যাকিং এবং ভিএআর প্রযুক্তি
স্টেডিয়ামের চারপাশের ১২টি হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরার সাথে এই সেন্সরটির কানেকশন থাকবে। বল এবং প্রতিজন প্লেয়ারের নিখুঁত অবস্থান ট্র্যাক করতে এই ক্যামেরা ও সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার ডাটা সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই ডাটাগুলো রিয়েল-টাইমে সরাসরি চলে যাবে ভিএআর অর্থাৎ ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি রুমে। এর ফলে অফসাইড এবং গোল-লাইন টেকনোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন মুহূর্তের মধ্যেই শতভাগ নিখুঁতভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।
হালকা ওজন এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ
বলের ভেতরে সেন্সর থাকায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্ন আসতেই পারে। তবে আশার কথা হলো, এই সেন্সরটি অত্যন্ত হালকা ওজনের। ফলে খেলার সময় ফুটবলাররা এর উপস্থিতি একেবারেই টের পাবেন না। আর একবার ফুল চার্জ দিলে এই হাই-টেক বলের ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত।
ডিজিটাল টেকনোলজির এই অসাধারণ ব্যবহার ফুটবলকে যেমন আরও নিখুঁত করবে, তেমনি রেফারিদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকেও ম্যাচগুলোকে দূরে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।