নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি: সংগৃহীত
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোর আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নানামুখী সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলশী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। আশির দশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটির আধুনিকায়ন গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের বিশেষ নজর রয়েছে। এছাড়া যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় দেড় দশক ধরে এই মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।
আরো পড়ুন -
১৭ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত যশোরবাসীর প্রত্যাশা অনেক
বিগত সরকারের ‘উন্নয়ন’ (!) চিত্র ঢাকতে সড়কে 'প্রসাধনী' প্রলেপ
নানা প্রত্যাশার ডালি সাজিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে আছে যশোরের নাগরিক সমাজ। বাণিজ্যিক গুরুত্ব সত্ত্বেও ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়ক এখনো সরু রয়ে গেছে। এছাড়া ভবদহের স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও যশোর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের দাবিটি দীর্ঘদিনের। এই দাবিগুলো নিয়ে আজ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সফরকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে জনসভাস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে মরহুম তরিকুল ইসলামের উন্নয়ন উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী যশোরের অমীমাংসিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কী ভূমিকা নেন।
যশোর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করা এবং বিভাগ ঘোষণার মতো নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ রয়েছে। জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকে এসব সংকটের কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান আসে কি না, তা জানতে মুখিয়ে আছে যশোরবাসী।