ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: গেটি ইমেজেস স্পোর্ট
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে বরাবরই অপ্রতিরোধ্য ব্রাজিল। টানা ৯২ বছর ধরে প্রথম ম্যাচে অপরাজিত থাকার সেই চেনা গৌরবময় ইতিহাস মাথায় নিয়েই নিউ জার্সিতে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল সেলেসাওরা। কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা মাঠ ছাড়ল ১-১ গোলের এক স্বস্তির ড্র নিয়ে। জয় ছিনিয়ে নেওয়ার মতো চেনা ছন্দ কিংবা ধারালো আক্রমণ—কোনোটিই উপহার দিতে পারলেন না ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনিয়ারা।
রোববার বাংলাদেশ সময় ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু থেকেই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেপে ধরে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হোল্ডে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। ম্যাচের ২১ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে লিড নেয় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ এক থ্রু পাস ধরে অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান মরক্কোর স্ট্রাইকার সাইবারি।
পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি ব্রাজিল। ম্যাচের ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারেজের ডিফেন্স-চেরা এক থ্রু পাস বক্সের বাঁ প্রান্তে খুঁজে নেয় ভিনিকে। চমৎকার স্কিলে ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে জোরালো শটে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বনোকে পরাস্ত করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে কৌশল বদলান ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ আনচেলত্তি। কাসেমিরোকে বেঞ্চে বসিয়ে তিনি মাঠে নামান ফ্যাবিনহোকে। এই পরিবর্তনের ফলে মরক্কোর আক্রমণের গতি কিছুটা কমলেও, ব্রাজিলের নিজেদের আক্রমণভাগ ছিল একদমই ধারহীন। পুরো ম্যাচে বল পজেশনেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি সেলেসাওরা। প্রথমার্ধে যেখানে ৫৪ শতাংশ বল দখলে ছিল তাদের, ম্যাচ শেষে তা নেমে আসে ৫২ শতাংশে। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর জমাট ডিফেন্স ভাঙতে না পারায় ড্রয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।