গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে স্মৃতি জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে দর্শনার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে জাদুঘরটি পরিদর্শন করতে পারছেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকা এই জাদুঘরে প্রবেশের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে স্মৃতি জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকার মনে করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই প্রতিটি অপরাধের বিচার হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের নামে তাদের নিজ নিজ এলাকায় একটি করে প্রতিষ্ঠানের নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট করেন, এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি ৫০ জনকে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি আহত জুলাই যোদ্ধাকে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে বিএনপির ৩১ দফা, ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং সংবিধান সংশোধন কমিটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।"
উদ্বোধনী দিনের ওই অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সচিব কানিজ মওলার স্বাগতিক বক্তব্যে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা স্মৃতিচারণ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।