বেনাপোল প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য মাত্র ২৪ টাকা। তবে শুল্ক, বন্দর, পরিবহন, খালাস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ হয়ে সেই মরিচ আমদানিকারকের হাত পর্যন্ত পৌঁছাতেই খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৩৫ টাকা। এরপর পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের মুনাফা যুক্ত হয়ে সাধারণ ভোক্তার হাতে কত দামে পৌঁছাবে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশা, আমদানি বৃদ্ধি পেলে দ্রুতই বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম কমতে শুরু করবে।
গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচবাহী প্রথম ট্রাকটি দেশে পৌঁছায়। বন্দরের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাতেই চালানটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘শিমু এন্টারপ্রাইজ’ এবং খালাস কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘শিমু শিপিং লাইন্স’।
আমদানিকারক শাহাজান জানান, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩৫ টাকা। কম লাভে এটি বাজারে বিক্রি করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, "আমদানি বাড়লে বাজারে দাম স্বাভাবিভাবেই কমে আসবে। তবে কাস্টমসে হয়রানি ও পণ্য ছাড়ে জটিলতার কারণে আমাদের অতিরিক্ত রাজস্ব ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।"
আমদানি–সংক্রান্ত কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি টন কাঁচা মরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা; অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে সরকারকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪৫ টাকা শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে মূল দাম ও শুল্ক মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৬৯ টাকা। পরবর্তীতে পরিবহন, বন্দর চার্জ, খালাস ও কাস্টমস প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হয়ে প্রকৃত আমদানি ব্যয় প্রায় ১৩৫ টাকায় গিয়ে ঠেকছে বলে জানান আমদানিকারকরা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণের কারণে দেশে কাঁচা মরিচের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজারে দাম বেড়ে কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এমনকি গতকালও বেনাপোলের স্থানীয় কাঁচাবাজারে ২৫০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে কৃত্রিম সংকট কাটাতে সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ (বিশেষ করে নাসিক) থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন, যার চালান দেশে প্রবেশ করা শুরু করেছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতেই ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত চালান এলে খুব দ্রুতই বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, "কাঁচা মরিচ পচনশীল পণ্য হওয়ায় ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই দ্রুততম সময়ে কাগজপত্র যাচাই করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সীমান্তের ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে, যা আজ মঙ্গলবার বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করার কথা রয়েছে।"