ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি
❒ ঝিকরগাছা সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
নির্বাচনী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে তৈরি হওয়া কৌতূহল নিরসনে এক বিবৃতি দিয়েছেন ঝিকরগাছা সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ। বিবৃতিতে তিনি সমর্থকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনী মনোনয়ন দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে একটি সংশোধনী দেওয়া হয়েছে। উক্ত সংশোধনীসহ আপিল করার জন্য নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশনা দিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই কর্মদিবসের মধ্যে তা অনুসরণ করে আপিল করা হবে, ইনশাআল্লাহ। সংশোধনীসহ আপিল করলেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।”
কেন মনোনয়ন বাতিল
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশেক হাসান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে ডা. ফরিদের প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেন। মূলত ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতায় ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স সনদ নির্বাচনী তথ্য ফরমের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় এই বিপত্তি ঘটে।

কী আছে ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্টে
রিটার্নিং অফিস সূত্রে জানা গেছে, ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের সিআইবি রিপোর্টে প্রায় ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডে বকেয়ার তথ্য পাওয়া যায়। যদিও প্রার্থী দাবি করেছেন যে তিনি বকেয়া আগেই পরিশোধ করেছেন এবং যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার প্রমাণপত্রও দাখিল করেন, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথিপত্র সমন্বয় না হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার প্রার্থিতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়।
প্রার্থিতা কি ফিরে পাবেন
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেহেতু বকেয়া অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং প্রার্থী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট উপস্থাপন করেছেন, সেহেতু নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদনের সুযোগ রয়েছে তার। নিয়ম অনুযায়ী আপিল করলে তার প্রার্থিতা পুনরায় বহাল হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ তার বিবৃতিতে অটল আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি খুব দ্রুত নির্বাচনী লড়াইয়ে ফিরবেন।