ঝিকরগাছা(যশোর) প্রতিনিধি
❒ বিএনপি প্রার্থী সাবেরা সুলতানা মুন্নি ছবি: সংগৃহীত
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোছাঃ সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে বিশাল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ ও মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার দায়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও নির্বাচনী হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি তিনি। এই তথ্য গোপনের কারণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তার প্রার্থিতা বাতিলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মামলার বিবরণ ও ব্যাংক দাবি: আদালত ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র ঢাকার একটি কর্পোরেট শাখা থেকে নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ না করায় ঢাকা ২য় অর্থ ঋণ আদালতে মামলা (নং-১৬৭/২০২৫) দায়ের করা হয়। ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাবিরা সুলতানার কাছে বকেয়া পাওনার পরিমাণ ৯ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ৫৮২ টাকা। এই মামলায় সাবিরা সুলতানার পাশাপাশি তার তিন সন্তানকেও বিবাদী করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ১৯ জানুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে ১৭ জানুয়ারিই এর শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ: অভিযোগ উঠেছে, সাবিরা সুলতানা তার দাখিলকৃত হলফনামায় ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, এবি, সিটি, বেসিক ও সোনালী ব্যাংকে হিসাব থাকার কথা উল্লেখ করলেও ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র এই বিশাল ঋণ ও চলমান মামলার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করেছেন। এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংক থেকেও আরও ৬ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার তথ্য হলফনামায় আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।
হলফনামায় তিনি যশোর ও ঢাকার আদালতে চলমান তিনটি মামলার তথ্য দিলেও অর্থ ঋণ আদালতের এই মামলাটির কথা এড়িয়ে গেছেন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, হলফনামায় ঋণের তথ্য গোপন করা প্রার্থিতা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রার্থিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা: গত ১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে মনোনয়নপত্র বাতিলের আপিল করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি এই আপিলের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংক এশিয়ার এই বিশাল অঙ্কের ঋণের তথ্য প্রমাণিত হলে এবং হলফনামায় তার সত্যতা না পাওয়া গেলে আইনি মারপ্যাঁচে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনী যাত্রা থমকে যেতে পারে।