ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ওয়ানডে ক্রিকেটে জয়ের জন্য লক্ষ্য ছিল ৪৩০ রানের পাহাড়সম পাহাড়। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে রেখেও দমে যায়নি শ্রীলঙ্কা। হ্যারি ব্রুকের বিশ্বরেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিকে ফিকে করে দিয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লঙ্কান সিংহরা। রুদ্ধশ্বাস এই লড়াইয়ে ৪৯.৫ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ড রানের পাহাড় গড়ে। হ্যারি ব্রুক এদিন ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম দ্বিশতকের নতুন কীর্তি গড়েন। মাত্র ১১৪ বলে ২০০ রান স্পর্শ করা ব্রুক শেষ পর্যন্ত ১১৬ বলে ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর চোখধাঁধানো ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কার ঝড়। ব্রুকের পাশাপাশি জো রুটের ৬৯, টম ব্যান্টনের ৫০ এবং উইল জ্যাকসের মাত্র ৩০ বলে ৬৬ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেটে ৪২৯ রান তোলে ইংলিশরা।
৪৩০ রানের সুবিশাল পাহাড় তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করতে থাকে শ্রীলঙ্কা। কঠিন সমীকরণকে সহজ করতে প্রতিটি ব্যাটারই কার্যকারী ভূমিকা রাখেন। দলগত চেষ্টার চূড়ান্ত রূপ দেন মিডল অর্ডার ব্যাটার পবন রথনায়েকে। তিনি ১০৬ বলে ১৩০ রানের এক দৃষ্টিনন্দন ও দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
জয়ের পথ সুগম করতে আর এক ধাপ এগিয়ে যান দাসুন শানাকা ও আভিষ্কা ফার্নান্দো। দুজনেই ব্যক্তিগত ৯৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে শানাকার ৫০ বলে ৯৭ রানের বিধ্বংসী নক ইংলিশ বোলারদের লাইন-লেংথ পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। আভিষ্কা তাঁর ৮৩ বলের ইনিংসে চমৎকার সংযম দেখান।
শেষ দিকে ম্যাচের নাটকীয়তা রূপ নেয় চূড়ান্ত রোমাঞ্চে। ম্যাচের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ নিজের কাঁধে তুলে নেন জানিথ লিয়ানাগে। মাত্র ২৭ বলে অপরাজিত ৬১ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলপ্রেমীদের উল্লাসে ভাসান তিনি। আসিথা ফার্নান্দোকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মাঠ ছাড়েন লিয়ানাগে।
ওয়ানডে ইতিহাসে সফলভাবে রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা; ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪৩৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৪৩৮ রান তুলে জয় পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। শ্রীলঙ্কার আজকের এই অবিস্মরণীয় জয় ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন সোনালী অধ্যায় যুক্ত করল।