আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: হার্ভার্ড অফিসিয়াল
গবেষণার উদ্দেশ্যে পাওয়া মৃতদেহ থেকে অঙ্গ চুরি ও অবৈধ বাজারে বিক্রির আলোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। চরম অবহেলা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে দায়ের করা দেওয়ানি মামলাগুলোর আইনি জটিলতা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪০ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে।
২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ‘হার্ভার্ড অ্যানাটমিক্যাল গিফট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় চিকিৎসা গবেষণার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে দান করা মানবদেহ থেকে গোপনে অঙ্গ কেটে চুরি করতেন তৎকালীন মর্গ ম্যানেজার ৫৮ বছর বয়সী সেড্রিক লজ। গবেষণার পর যে অঙ্গগুলো নিয়ম অনুযায়ী দাফন, দাহ বা স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল—সেগুলোর মাথা, মস্তিষ্ক, চামড়া, হাত ও মুখমণ্ডল চুরি করতেন তিনি। এরপর নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাড়িতে নিয়ে স্ত্রী ডেনিস লজকে সঙ্গে নিয়ে অনলাইনে ও সরাসরি গ্রাহকদের কাছে মোটা অঙ্কে তা বিক্রি করতেন। ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং পেনসিলভানিয়াজুড়ে তাদের এই অবৈধ পাচার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।
পরবর্তীকালে বিষয়টি প্রকাশ পেলে ২০২৩ সালে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ক্লাস অ্যাকশন মামলা করে। সেড্রিক লজ তার অপরাধ স্বীকার করে নিলে গত ডিসেম্বরে আদালত তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেন।
সোমবার এক যৌথ বার্তায় হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডিন জর্জ ডালি এবং চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের ডিন বার্নার্ড চ্যাংক জানান, দীর্ঘ মেয়াদি বিচারপ্রক্রিয়া ও অনিশ্চয়তা এড়াতেই এই ক্ষতিপূরণ চুক্তিতে রাজি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। আদালত থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই নিরপেক্ষ এক প্রশাসকের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে শনাক্ত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ বণ্টন করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।