Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

দেশের ৬ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন,২০২৬, ১০:০৫ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন,২০২৬, ১০:৩০ পিএম
দেশের ৬ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু

দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, বগুড়া ও ময়মনসিংহে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বৃষ্টির সময় পৃথক ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

বজ্রপাতে নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার মো. রাব্বিলের ছেলে আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ী চাঁদপুর এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার ফিটু আলীর ছেলে মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম এবং নিজামপুরের হাসান আলী।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, শিবগঞ্জে নিহত তিনজন বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ি এলাকায় মাঠে ঘাস কাটার পর বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান সুমিয়ারা বেগম। এছাড়া একই সময়ে নাচোল উপজেলা নিজামপুর এলাকায় আম কুড়াতে গিয়ে হাসান আলি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ।

নাটোর
জেলার সিংড়া উপজেলার লালোর ইউনিয়নের বড় বারইহাটি গ্রামে বজ্রপাতে মধু আলী (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি ওই গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, আজ সন্ধ্যার কিছু আগে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে স্থানীয় যুবক মধু গরু আনতে বাড়ির পাশে খোলা মাঠে যায়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মধু গুরুতর আহত হয়। এ সময় আশপাশে থাকা লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধুকে মৃত ঘোষণা করেন।

নীলফামারী
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বজ্রপাতে আলম ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সেলিনা বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধূ। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নিজপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যায় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় নিজপাড়া এলাকায় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলম ইসলাম। এ সময় পাশেই থাকা তার এক প্রতিবেশী গৃহবধূ গুরুতর আহত হন।

ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত গৃহবধূকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

পঞ্চগড়
জেলায় বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাত ওই এলাকার কেরামত আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিকেলে তিনি ট্রাক্টরচালকের সঙ্গে জমি থেকে ভুট্টা পরিবহন করছিলেন। এ সময় ট্রাক্টরের চাকা নরম মাটিতে দেবে যায়। বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় ট্রাক্টর তোলার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি বেলচা আনতে বাড়িতে যান তিনি। বেলচা নিয়ে ঘটনাস্থলে ফেরার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন শাহাদাত। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া
জেলার আদমদীঘি উপজেলায় বজ্রপাতে রাব্বী হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তার মা মনিকা বেগম আহত হন। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের একটি মরিচখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই রাব্বী মারা যায়। আহত মনিকা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কৃষক, আরেকজন তরুণ।

মুক্তাগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর এলাকায় বজ্রপাতে কলেজশিক্ষক এএসএম খালেকুল আজাদের (৫৬) মৃত্যু হয়েছে। তিনি গাবতলী ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। দুপুরে বৃষ্টির সময় একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পর বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেলার মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন গ্রামে খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সিয়াম (১৮) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)