নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে পারিবারিক কলহ ও মানসিক টানাপোড়েনের জেরে অভিমান করে রাবেয়া খাতুন (১৪) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মোবারককাঠি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুলছাত্রী রাবেয়া খাতুন ওই গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর এমন অকাল ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ওই পরিবারটিতে অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরেও পরিবারের সদস্যদের সাথে রাবেয়ার একচোট মনমালিন্য হয়। এরই একপর্যায়ে ক্ষোভ ও অভিমানে সে সবার অগোচরে নিজের শয়নকক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। বেশ কিছু সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগে। পরে জানলা দিয়ে ভেতরে তাকে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে চিৎকার শুরু করেন স্বজনরা। দ্রুত দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গলায় ফাঁস লাগার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালের এই সময়ে সামান্য পারিবারিক বিরোধ বা মানসিক চাপও কিশোর-কিশোরীদের মনে তীব্র প্রভাব ফেলে। আবেগ নিয়ন্ত্রণের পরিপক্বতা না থাকায় অনেক সময় তারা চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবারের ভেতরে সন্তানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।