নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঈদুল আজহার বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রান্তিক পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য পর্যাপ্ত লবণের মজুদ নিশ্চিত করাসহ প্রান্তিক পর্যায়ের মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চামড়া পাচার রোধে যশোর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদুল আজহার বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভায় চামড়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে জানানো হয়, চামড়ার গুণগত মান ঠিক থাকলে প্রতি বর্গফুট চামড়া সরকার নির্ধারিত ৬২ টাকা মূল্যে কেনাবেচা হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে সাত দিন চামড়া সংরক্ষণ করার পর ঢাকার মূল ট্যানারিগুলোতে পাঠাতে হবে। তবে আন্তঃবিভাগীয় জেলাসমূহের মোকামে চামড়া বেচা-বিক্রিতে কোনো বাধা থাকবে না। চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এবং লবণের সংকট এড়াতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র জুমার নামাজে মসজিদের খতিবদের কোরবানির পশু জবাই ও চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুলিশি হয়রানি বন্ধে প্রতিটি চামড়াবাহী ও পশুবাহী গাড়িতে বাধ্যতামূলক ‘মুভমেন্ট ব্যানার’ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সভায় যশোর রাজার হাট চামড়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কোরবানির দিন থেকে পরবর্তী কয়েক দিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা বাজারে চামড়া আনা-নেওয়া করবেন, তারা যেন পুলিশি বাধার মুখে না পড়েন। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সভায় পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, কোরবানির পশুর হাট কোনোভাবেই জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে বসানো যাবে না। যানচলাচল ও জনজীবন যাতে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় জানানো হয়, সরকারি তথ্য অনুযায়ী যশোর জেলায় মোট ৩১টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি স্থানীয় হাট ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বাকি ২১টি হাটের ইজারাদারদের নিজ খরচে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাটে ছিনতাই ও জাল টাকার কারবার রোধে পুলিশ এবং বাজার কমিটিকে নিজস্ব ভলেন্টিয়ার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের ও সোনালী ব্যাংকের মোট ৫৮টি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন আছে। বাজার কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো হাটে ব্যবহার করা হবে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জাল টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রকার টোল বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়া কোরবানি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে একটি বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, যশোর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান, যশোর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।
এছাড়াও জেলা রাজার হাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিনুল মুজিদ পলাশ ও বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আলাউদ্দিন মুকুলসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা সভায় অংশ নেন।
সুষ্ঠু ও নিরাপদ ঈদুল আজহা উদযাপনে সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা কামনা করেছে জেলা প্রশাসন।