যদি তুমি ডাকো
যদি তুমি একবার ডাকো…
নাম ধরে না হোক,
না হোক রাই বিনোদিনী সোহাগে।
অন্তত একবার যদি ডাকো,
সেই চঞ্চলা দৃষ্টি বাড়িয়ে…
ঐ হরিণী চোখের ভ্রু দু'টি বাঁকিয়ে,
ঠিক পুরোনো সেই আবেগ মাখিয়ে।
তবে ছুটে যাবো তোমার মোহনায়,
যেখানে আছে আমার নোঙর পোঁতা
অদৃশ্য অনুভবের পাহারায়।
পুনরায় অঙ্কুরিত কঁচি পাতায়
লিখে দেবো ভালোবাসার বেহাগ।
সব ভুলে নেয়ে উঠবো উষ্ণ আলিঙ্গনে।
লিপস্টিক আর নিকোটিনের মিশ্রণে
কৃষ্ণচূড়া আভায় হাসবে গোধূলি…
পাপড়ি ঝরা গালিচায় হবে স্বপ্ন আবাদ।
একবার যদি ডাকো ঠিক পৌঁছে যাবো,
ভালোবাসা কাতর মনটাকে সঁপে দেবো
তোমার ঐ পলাশি কেশের ভাঁজে।
চরাচর জুড়ে হবে বাসন্তি অবগাহন।
ভ্যালেন্টাইন কোন প্রহরে…
যদি তোমারও মনটা হয় উচাটন,
তবে স্মৃতি হাতরে খুঁজে নিও পুরোনো ডায়েরি।
দেখবে বিচ্ছেদি প্রেমে উঠবে অনুরণন,
যার প্রতিটি কম্পিত নিঃশ্বাসে কেবল
উন্মত্ত ভালোবাসার হবে নিঃসরণ।
গোধূলির রঙ হাসবে তবে...
নীরবতা ভেঙে যদি তুমি ডাকো….!!!
একবার এসো
বিশ্বসংসার আবার শান্ত হলে,
একবার এসে ঘুরে যেও প্রীতিলতা।
তুমি এলে কিছুক্ষণের জন্য,
হারিয়ে যাবো দূর অজানায়।
জল-জোছনার জলকেলিতে
ভাসাবো ডিঙ্গি নৌকা।
যদি আসো, আবছায়া মেঘ যাবে ধুয়ে
অস্থির হৃদয়ের কার্নিশ ছুঁয়ে,
ললাটে ফুঁটবে রাজটিকা!
সুখকম্পন সমস্ত দেহ-মন জুড়ে
ছড়াবে অনাবিল প্রশান্তির ছোঁয়া।
হেরে যাওয়া যতো গল্প
সেদিন নাহয় যাবো ভুলে,
হারিয়ে যাবো অসীম সমুদ্রের বুকে।
ছোট ছোট ঢেউয়ের কলকাকলিতে
কান পেতে শুনবো ভালোবাসার স্বরলিপি।
তোমাকে সাদর নিমন্ত্রণ প্রিয়তমা
সময় করে কোন এক লগনে এসো,
অন্তত একবার এসো
আমার সলীল স্বপ্ন ঘোরে।
শিৎকারের আড়ালে চিৎকার
খরতাপে পোড়া দেহে অনাবিল শান্তির পরশ,
নেতিয়ে দিচ্ছে বোশেখী ফুরফুরে বাতাস।
খন্ড অবসর মুড়িয়ে দিচ্ছে আলতো আদরে।
প্রশান্তির এই মোহময় ছোঁয়া
কখনো কখনো কপাল জুড়ে এঁকে দেয় চিন্তার ভাঁজ।
শরীর জুড়িয়ে চলে যাওয়া এই বাউলি মিছিল,
কোথাও না কোথাও তো হবেই গতিরোধ!
ভাটি টানে ফিরে আসা ক্ষুধার্ত মিছিল ফুঁসবে তখন প্রচণ্ড ক্ষোভে,
শান্তির পরশ-মাতাল অনুভূতি…
সবকিছু লন্ডভন্ড করবে এই দামাল বাতাস,
হয়তো নিজের পরিচয় দেবে 'কালবৈশাখী'।
দাম্ভিকতার পরিচয়ে দেখাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
অতীত ফেরা ভাবনা বারবার নাড়ছে করা,
শিৎকারের খুব নিকটে চিৎকার দেয় ইশারা।