❒ যশোর-২: দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলে আছে মামলায়
বিশেষ প্রতিবেদক
❒ জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ ও বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে নির্বাচনি উত্তাপের চেয়ে এখন আইনি লড়াইয়ের উত্তাপই বেশি। নির্বাচনী মাঠের প্রধান দুই শক্তির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা এবং জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ—উভয়েরই প্রার্থিতা এখন আইনি মারপ্যাঁচে আটকে আছে। ফলে আগামী ১৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা যশোরবাসী। স্থানীয়দের ধারণা, এই দুই প্রার্থী যদি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ফিরতে না পারেন, তবে এই আসনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ও নিষ্প্রভ হয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার মনোনয়নপত্র জেলা রিটার্নিং অফিসার গত ১ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করলেও বিপত্তি বাঁধে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলামের করা আপিলে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবিরা সুলতানা ব্যাংক এশিয়া পিএলসি-র প্রায় ৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ খেলাপির তথ্য হলফনামায় গোপন করেছেন।
ব্যাংক ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, অর্থ ঋণ আদালত ঢাকা-২-এ (মামলা নং ১৬৭/২০২৫) তার বিরুদ্ধে সমন জারি হয়েছিল। হলফনামায় চলমান তিনটি মামলার কথা বললেও এই বৃহৎ অঙ্কের ঋণের তথ্য তিনি দেননি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তথ্য গোপন ও ঋণ খেলাপি হওয়া প্রার্থিতা বাতিলের অন্যতম কারণ। আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি এই আপিলের শুনানি। যদি রায় বিপক্ষে যায়, তবে মাঠ থেকে ছিটকে যেতে পারেন বিএনপির এই শক্তিশালী প্রার্থী।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার বাতিল করেছিলেন। এর বিপরীতে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। গত ১১ জানুয়ারি তার শুনানি সম্পন্ন হলেও নির্বাচন কমিশন রায় স্থগিত রেখে আগামী ১৬ জানুয়ারি ঘোষণার দিন ধার্য করেছে। ফরিদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। যদিও প্রার্থীর দাবি, তিনি প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র দাখিল করেছেন।
যশোর-২ আসনের সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে এখন বড় প্রশ্ন—যদি বড় দুই দলের এই দুই প্রার্থীই নির্বাচনে থাকতে না পারেন, তবে ভোটের সমীকরণ কী হবে?
সাবিরা সুলতানা প্রার্থীতা হারালে বিএনপির একটি বড় অংশ কি স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলামকে মেনে নেবে? সাবিরা মুন্নীর অনুসারীরা কি শেষ পর্যন্ত জহুরুলের প্রতীকে সওয়ার হবেন, নাকি তারা ভোট বিমুখ হয়ে পড়বেন?
জিামায়াত প্রাথী যদি ফিরে না পান তাহলে জামায়াতের ভোটাররা কোন দিকে যাবেন? তারা কি আদেও ভোটের মাঠে থাকবেন?এ প্রশ্ন ঘুরছে ভোটারদের মাঝে। তবে জামায়াত সমর্থকদের দৃঢ় বিশ্বাস তাদের প্রার্থী আইনী জটিলতা কাটিয়ে নির্বাচনের মাঠে ফিরবেন।
প্রধান দুই জোটের প্রার্থীরা যদি আইনি বাধায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন, তবে ভোটের লড়াইয়ের তেজ এক নিমেষেই কমে যাবে। ভোটারদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহও তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে।
আগামীকাল শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি বিকেলে যখন নির্বাচন কমিশন তাদের রায় ঘোষণা করবে, তখনই পরিষ্কার হবে যশোর-২ আসনের নির্বাচনী ময়দান কতটা জমবে। দুই প্রার্থীর সমর্থকদেরই দমবন্ধ করা অপেক্ষা এখন কেবল শুভ সংবাদের জন্য। যদি তারা ফিরতে না পারেন, তবে ঝিকরগাছা-চৌগাছার নির্বাচনী পরিবেশ বড় ধরণের সংকটে পড়বে—এমনটাই ভাবছেন ভোটাররা।