মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
❒ ডুমুরখালি বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় নির্মিত সেতু ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের মনিরামপুরে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি সেতুর জন্য কয়েক দশকের আকুতি ছিল স্থানীয় মানুষের। বারবার আশ্বাস মিললেও মেলেনি সমাধান। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন মালয়েশিয়া প্রবাসী এক যুবক। নিজের জমানো ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদের ওপর ৩০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশ-কাঠের সেতু নির্মাণ করে রীতিমতো চমক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি।
মণিরামপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলার মধ্যবর্তী ডুমুরখালি বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় নির্মিত এই সেতুটি এখন এই অঞ্চলের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কোনো সরকারি বরাদ্দ বা রাজনৈতিক উদ্যোগ ছাড়াই নির্মিত এই সেতুটি স্থানীয়দের কাছে এখন এক মানবিকতার উদাহরণ।
সেতুটির নির্মাতা জিয়াউর রহমান মণিরামপুরের বাসিন্দা, যিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দৌড় মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। এরপরেও প্রবাসের সেই হাড়ভাঙা খাটুনির টাকা একটু একটু করে জমিয়ে সেতুর নির্মাণের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন।
মণিরামপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলার মধ্যবর্তী ডুমুরখালি বাজার সংলগ্ন খেয়াঘাটে নির্মিত এই সেতুটি এখন এই অঞ্চলের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। ৩০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬ ফুট প্রস্থের এই সেতুটি চালু হওয়ায় উজ্জ্বলপুর, বালিয়াডাঙ্গা, খোশালনগরসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষ কয়েক কিলোমিটার পথ কমে সরাসরি যাতায়াত করতে পারছেন।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে বর্ষা মৌসুমে শিশুদের বইখাতা নিয়ে নদী পার হওয়া ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো। এখন জিয়াউর রহমানের এই সেতুর ওপর দিয়ে বাইসাইকেল, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে, যা কৃষিপণ্য বাজারে নিতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমি কোনো সম্মানের আশায় এটি করিনি। ছুটিতে এসে দেখতাম মানুষের কষ্ট। মনে হয়েছে আমি অন্তত শুরুটা করি। এরপর অনেকে এগিয়ে আসবে। মানুষ এখন শান্তিতে নদী পার হচ্ছে, এটাই আমার শান্তি।’