আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীন মাত্রায় জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের রাজপথে নামা ঠেকাতে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর ও নতুন দিল্লি জেলাসহ পুরো আশপাশের এলাকায় জারি করা হয়েছে কঠোর প্রশাসনিক বিধিনিষেধ। প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি মেট্রো চলাচল সীমিত এবং একঝাঁক ট্রেন বাতিল করে পুরো এলাকাকে রীতিমতো দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলটির পূর্ববর্তী কিছু কর্মসূচিতে নীতিমালার চরম লঙ্ঘন দেখা যায়। তাছাড়া এবারও নির্ধারিত ১০ দিন আগে সভার কোনো আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি। নিরাপত্তার সার্বিক ঝুঁকি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
বিক্ষোভকারীরা যেন কোনোভাবেই নতুন দিল্লি ও যন্তর মন্তরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় জমায়েত হতে না পারেন, সেজন্য গণপরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকেই নির্ধারিত ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের সব প্রবেশ ও প্রস্থান পথ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা শনিবারেও কার্যকর থাকছে। পাশাপাশি রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং কাশ্মীরি গেটের মতো ব্যস্ততম ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলোতে ট্রেনের ট্রিপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রীদের ওপরও এই কর্মসূচির বড় প্রভাব পড়ছে। শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নতুন দিল্লি ও হযরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকা একাধিক ট্রেন বাতিল ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের স্টেশনের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়ার আগে ট্রেনের হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
রাজধানীর শান্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদনে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) মোট ৩৩১টি কোম্পানি। এই বিপুল নিরাপত্তা বলয়ে সিআরপিএফ, এসএসবি, আইটিবিপি, আরএএফ ও সিআইএসএফ—এই পাঁচ প্রধান বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য দিনরাত টহল দিচ্ছেন। মোড়ে মোড়ে বহুপাক্ষিক ব্যারিকেড তৈরির পাশাপাশি পুরো এলাকা জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ফেস রিকগনিশন সিস্টেম এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে। আন্দোলনকারীরা যেন পার্শ্ববর্তী কোনো সীমান্ত দিয়ে দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশসহ সীমান্তঘেঁষা রাজ্যগুলোর পুলিশকেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে।