নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোরের আলো ফোটার আগেই কালেক্টরেট পুকুরপাড়ে সমবেত হয়ে তিলতর্পণ করেন পূজারিরা। ছবি: ধ্রুব নিউজ
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সকালে বিশেষ পূজার মাধ্যমে দেবীকে সপরিবারে ধরায় আবাহন ও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এরই মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনায় শুরু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার ক্ষণগণনা।
যশোরে ভোরের আলো ফোটার আগেই জেলার ৭৩৭টি মন্দির ও মণ্ডপ কমিটির আয়োজনে শুরু হয় মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা। মহালয়া উপলক্ষে জেলার প্রধান আয়োজন করা হয় কালেক্টরেট পুকুরপাড়ে। সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন শহরের বিভিন্ন মন্দিরের ভক্তরা। বিশেষ পূজা শেষে পূর্বপুরুষের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় করা হয় তিলতর্পণ।
অনুষ্ঠানে আসা পূজারিরা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই কালেক্টরেট পুকুরপাড়ে সমবেত হয়ে তিলতর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও দেবীপক্ষকে আবাহন জানানোর যে অনুভূতি, তা অত্যন্ত আনন্দের।
আয়োজনের সার্বিক বিষয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ বলেন, “যশোরের ৭৩৭টি মণ্ডপে এবার অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপিত হয়েছে। সব মণ্ডপেই পূজা আয়োজনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, মহালয়ার দিনে কৈলাস থেকে দেবী দুর্গা তার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে সাথে নিয়ে মর্ত্যে পিতৃগৃহে আগমনের যাত্রা শুরু করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার পর ভক্তদের ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজা গ্রহণ করে তিনি পুনরায় ফিরে যান কৈলাসে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব, যা শেষ হবে ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।
পুরাণে বলা হয়েছে, মহালয়ার দিনেই দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান এবং মর্ত্যে তার আগমন ঘটে। শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) এবং গমন হবে নৌকায়।