Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

থাইল্যান্ডে কিশোরের গুলিতে ৮ জন নিহত, বিদ্যালয়ে হামলার পর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ আগস্ট,২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
থাইল্যান্ডে কিশোরের গুলিতে ৮ জন নিহত, বিদ্যালয়ে হামলার পর আত্মহত্যা

শিক্ষার্থীদের ছড়ানো-ছিটানো জুতার মাঝে গুলির অংশবিশেষ ছবি: সংগৃহীত

২০১৭ সালের স্মল আর্মস সার্ভের হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে আনুমানিক ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে প্রায় ১৫টি বন্দুক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি

থাইল্যান্ডে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর বাড়ি ও একটি স্কুলে গুলি চালিয়ে অন্তত আটজনকে হত্যা করেছে। পরে সে নিজেও গুলি করে আত্মহত্যা করে। আজ রাজধানী ব্যাংককের বাইরে ওই হামলায় প্রথমে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে কিশোরটি। দেশটিতে ২০২২ সালের পর এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর রয়টার্স।

পুলিশ জানায়, ওই কিশোর অন্তত ২৬টি গুলি ছোড়ে। তার কাছে আরও ৩৪টি গুলি পাওয়া যায়। ব্যবহৃত বন্দুকটি তার দাদার ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওই কিশোর ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে হামলা চালায়। এক শিক্ষার্থী জানান, শুরুতে ভেবেছিলেন কেউ হয়তো পটকা ফাটাচ্ছে বা কোনো কিছুতে আঘাত করছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমে বুঝতেই পারিনি যে এটা বন্দুকের গুলির শব্দ। অনেকগুলো গুলি চলছিল—ঠাস, ঠাস, ঠাস। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর আবার গুলি শুরু হয়।’

জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ত্রাইরং ফোপান জানান, স্কুলে নিহত সাতজনের মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১৫ জন আহত হয়েছেন।

থাই শিক্ষামন্ত্রী প্রসের্ত জান্তারারুয়াংথং জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—দুই পক্ষের লোকই রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ওই স্কুলেরই একজন শিক্ষার্থী।

চলতি বছর থাইল্যান্ডে এটি দ্বিতীয় স্কুলে গুলির ঘটনা। ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে গুলি চালিয়ে এক শিক্ষককে হত্যা এবং এক শিক্ষার্থীকে আহত করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডে সাধারণ মানুষের কাছে বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে এবং বন্দুক সহিংসতাও অস্বাভাবিক নয়। গত ছয় বছরে দেশটিতে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বন্দুক হামলা হয়েছে, যার শিকার হয়েছে শিশুরাও।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে একক হামলাকারীর চালানো থাইল্যান্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে ২০২২ সালে। সে সময় এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বন্দুক ও ছুরি নিয়ে হামলা চালান। এতে ৩৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে ঘুমিয়ে থাকা ২২ শিশুও ছিল।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্যাংককের একটি বাজারে এক বন্দুকধারী নিরাপত্তাকর্মী ও এক বিক্রেতাসহ পাঁচজনকে হত্যা করে। পরে নিজেও আত্মহত্যা করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হাত ইয়াইয়ে একটি স্কুলে গুলির ঘটনায় এক শিক্ষক নিহত হন।

২০২০ সালে নাখন রাতচাসিমা শহরে এক সেনাসদস্যের নির্বিচার গুলিতে ২৯ জন নিহত হন। আর ২০২৩ সালে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর মডিফাই হ্যান্ডগান ব্যবহার করে ব্যাংককের একটি অভিজাত শপিং সেন্টারে গুলি চালায়। এতে দুজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন।

২০২৩ সালের ওই হামলার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুতিন বন্দুক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে নতুন বন্দুকের লাইসেন্স দেয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করা, আগ্নেয়াস্ত্র আমদানিতে বিধিনিষেধ এবং ২০ বছরের কম বয়সীদের শুটিং রেঞ্জে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

২০১৭ সালের স্মল আর্মস সার্ভের হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে আনুমানিক ১ কোটি ৩ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে প্রায় ১৫টি বন্দুক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)