আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আল-জাজিরার ফটোসাংবাদিক আহমেদ উইশাহ ছবি: সংগৃুহীত
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রান্তে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবানন ও ফিলিস্তিনের গাজায় পৃথক ইসরায়েলি হামলায় আল-জাজিরার এক ফটোসাংবাদিকসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এই অব্যাহত সহিংসতা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়া ও চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে চরম সংকটের মুখে ফেলেছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত শনিবার লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নাবাতিয়েহ জেলায় ১৬ জন, টাইর জেলার বারিশ গ্রামে একই পরিবারের ৪ জন, পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমরে ৪ জন এবং সাইদা জেলার কানারিত এলাকায় ৭ জন নিহত হন। হামলায় কফর রেমান এলাকায় এক লেবানিজ সেনাসদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত শুক্রবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় মোট ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ এলাকার কাছে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ৫০টির বেশি রকেট নিক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই সংঘর্ষে এক ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ফটোসাংবাদিক আহমেদ উইশাহ নিহত হয়েছেন। গাজার মধ্যাঞ্চলীয় বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের একটি বাড়িতে অবস্থানকালে চালানো এই হামলায় উইশাহসহ দুজন নিহত হন। আল-জাজিরা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে তাদের ১২ জন কর্মী ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন। গত এপ্রিল মাসে আহমেদ উইশাহের ভাই মোহাম্মদ উইশাহও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছিলেন। বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের এই হামলাসহ গত শনিবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ মোট ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এই ভয়াবহ সহিংসতার মধ্যেই আজ রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতার অংশ নিচ্ছে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়া এই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। এছাড়া আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনার কথা থাকলেও হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত না করায় স্থায়ী সমাধান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি আলী ফাইয়াদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করলে এই যুদ্ধবিরতির কোনো অর্থ নেই এবং আত্মরক্ষার অধিকার নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।